বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ ও গণভোট নির্বাচনের আগে ভারত তাদের কূটনৈতিক পরিবারকে নিরাপদে তুলে নিয়েছে। ঠিক তার ক’দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় কিছু দিকনির্শনা দিয়ে সতর্কতা জারী করেছেন। বিশ্বের দুশক্তিধর দেশ বাংলাদেশের নির্বাচনের পূর্বে এ ধরনের সতর্কতা মানে –নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তবে উন্নত বিশ্বেও নির্বাচনের আগে এ ধরনের সতর্কতা জারী করা হয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে, এটি কোনও দেশের পিছিয়ে পড়ার লক্ষণ নয়। বরং রাষ্ট্রের নিয়মিত নাগরিক সুরক্ষা চর্চার অংশ। উন্নত গণতন্ত্রের শক্তি হলো ঝুঁকি স্বীকার করা আগাম প্রস্তুতি নেয়া। ভোট ও গণতন্ত্র সময়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে। যদি এখন সঠিক সিদ্ধান্ত ও সুরক্ষায় অংশগ্রহণ না হয়; তাহলে গণতন্ত্র বাক–স্বাধীনতা, ভোটধিকার, ভোটের মূ্ল্য, আস্থা ও প্রক্রিয়া ভেঙে পড়তে পারে। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে জেগে ওঠতে হবে। গণতান্ত্রিক আস্থা ফিরিয়ে আনার এইতো সময়। নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। ইতোমধ্যে একদল–অন্যদলের বিরুদ্ধে স্যোসাল মিডিয়ায় ঝড় তুলছেন। বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্ক থেমে নেই। তবে এটি সীমার মধ্যে থাকা গণতন্ত্রের অলংকার হয়ে উঠতে পারে। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম রাজনৈতিক দার্শনিক আইজাইয়া বার্লিন তাঁর বিখ্যাত রচনা Two concepts of libery তে –লিখেছেন– স্বাধীনতা মানে ক্ষমতাকে সীমার মধ্যে রাখা। ভোট সেই সীমা তৈরী করে। প্রাক্তন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ ও IRC এর সভাপতি ডেভিড মিলিব্র্যান্ড ২০২৬ সালের International Rescue Committee এর প্রকাশিত রিপোর্টে– বিশ্বের সবচেয়ে উদ্বেগজনক মানবিক সংকটের একটি হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরেছেন– সেখানে তিনি বৈশ্বিক স্থিতাবস্থার ব্যর্থতাগুলো বিশ্ব রাজনীতির রূপ সম্পর্কে বলতে গিয়ে “নতুন বিশ্ব ব্যাধি” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বৈশ্বিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কী ঘটছে তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন–বর্তমানে এসব অঞ্চলে ২শ ৩৯ মিলিয়ন মানুষ মানবিক চাহিদার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এসব দেশে স্রেফ দুই পক্ষের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে –বহুমুখি আন্তর্জাতিকীকরণ ক্ষমতার খেলায় দাবাড় গুটিতে পরিণত হয়েছে। “নতুন বিশ্ব ব্যাধি” হলো বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সুরক্ষার চেয়ে লাভের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব। এতে করে ভূ–রাজনীতি কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেসামরিক মানুষদের জীবনকে প্রভাবিত করছে, যারা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ যেমন ফিলিস্তিন অঞ্চল, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, হাইতি, মায়ানমার, কঙ্গো গণপ্রজাতন্ত্রও রয়েছে। যা বিশ্ব জনসংখ্যার ১২ শতাংশ। ভূ–রাজনীতি শুধু সরকারের খেলা নয়, জনগণই তার ভিত্তি। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে সাইবার হামলা–পাল্টা হামলা–মামলা ও জনগণের মাঝে ভুল তথ্য ছড়ানো রাষ্ট্রের দুর্বলতা। বাংলাদেশের মত দেশে জনগণের ভূমিকা দায়িত্বশীল না হলে কোনও কৌশলই টেকসই হবে না। নিরাপদ থাকুক বাংলার জনগণ –জয় হোক লাল সবুজের বাংলাদেশ।












