জয় পরাজয় নয় লিটনের কাছে এশিয়া কাপের প্রস্তুতিটাই আসল

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শুক্রবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৫ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ

নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের কাছে খুব বেশি পরিচিত প্রতিপক্ষ নয়। কারন খুব বেশি এই দলটিরে বিপক্ষে খেলা হয়নি টাইগারদের। দেশের মাটিতো খেলেইনি লিটনরা। যদিও যে পাঁচবারের মোকাবেলা হয়েছে তাতে অবশ্য চারটি জয় বাংলাদেশের। তারপরও এই ধরনের সিরিজে একটি সঙ্কটের জায়গা সবসময়ই থাকে বলে মনে করছেন টাইগার অধিনায়ক লিটন দাশ। প্রাপ্তির সুযোগ খুব বেশি নেই, তবে হারানোর আছে অনেক কিছু। সেই শঙ্কাকে আলিঙ্গন করেই লিটন কুমার দাস বলছেন যদি হেরে যাই, হারতেই পারি। এর মানে এই নয় যে পরাজয়কে ভাবনায় রেখে মাঠে নামবেন তারা। তিনি বরং তাকিয়ে সম্ভাবনার পূর্ণতায়। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজে দারুণ কিছু করে এশিয়া কাপের জন্য আত্মবিশ্বাসের রসদ আরও সমৃদ্ধ করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক। এশিয়া কাপের প্রস্তুতির জন্যই মূলত এই সিরিজটির ব্যবস্থা করেছে বিসিবি। স্বয়ং লিটনেরও চাওয়া ছিল এমন একটি সিরিজের। বেশ কিছুদিন আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছিলেন, এশিয়া কাপের আগে একটি সিরিজ খেলতে পারলে ভালো হয়। সেই সিরিজ এখন দুয়ারে দাঁড়িয়ে। সিলেটে তিন ম্যাচের সিরিজটি শুরু শনিবার। প্রস্তুতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি জয়, এরকম একটি প্রশ্ন তো থাকছেই। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুশীলন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিটন বললেন, জয়ই তো আদর্শ প্রস্তুতি।

আমরা খেলব জেতার জন্যই। যেহেতু আমাদের হাতে খুব বেশি সময়ও নেই, এই সিরিজের পরই বড় আসর এশিয়া কাপ। আমার মনে হয় এশিয়া কাপের আগে এটি একটি খুব ভালো সিরিজ হবে বাংলাদেশ দলের জন্য। আবু ধাবিতে একইরকম কন্ডিশন থাকার সম্ভাবনা বেশি। আশা করি এই সিরিজ থেকে ভালো কিছু নিতে পারব এশিয়া কাপের জন্য। যে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচই চ্যালেঞ্জিং। নেদারল্যান্ডস ভালো টিম। হয়তো তারা এই কন্ডিশনে খুব একটা খেলে না। তবে যদি ভালো উইকেটে খেলা হয়, তারা ভালো উইকেটে ভালো ক্রিকেট খেলে অভ্যস্ত। যদি এশিয়া কাপের আগে আমাদের হাতে ওই সুযোগ থাকে, অবশ্যই কিছু ক্রিকেটারকে দেখে নিতে চাইব। পাশাপাশি এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, জেতার জন্যই যেতে হবে। প্রত্যাশার পথ ধরে জয় পেলে তো ভালোই। কিন্তু এই ধরনের সিরিজে হেরে গেলে সেই ধাক্কাটা আরও বেশি প্রবল হয়েই লাগে। আত্মবিশ্বাসে চোট লাগে অনেক বেশি। লিটন এই ভাবনাটাকেই পাত্তা দিতে চাইলেন না। বাংলাদেশ এর আগেও অনেক দলের কাছে হেরেছে। নতুন কোনো কিছু না। যদি হেরেও যাই তাহলে হেরে যেতেই পারি। দুইটা দলই খেলতে এসেছে, একটা দল জিতবে, একটা দল হারবে। তবে আমরা কতটা ক্রিকেট ভালো খেলতে পারছি এটা হচ্ছে মূল ব্যাপার।

এশিয়া কাপে চোখ রেখে গত তিন সপ্তাহ ধরে নিবিড় অনুশীলন চলছে বাংলাদেশ দলের। শুরুতে ছিল শুধুই ফিটনেস নিয়ে কাজ। ট্রেনার ন্যাথান কাইলির তত্ত্বাবধানে সেখানে ঘাম ঝরিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এরপর স্কিল ঝালাই ও ফিটনেস অনুশীলন চলেছে পাশাপাশি। ঢাকা থেকে সিলেটে গিয়েও সপ্তাহখানেক ধরে চলছে এই প্রস্তুতির পালা। বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবারের অনুশীলন সেশন অবশ্য বাতিল হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সার্বিক প্রস্তুতিতে লিটন সন্তুষ্ট। পাকিস্তান সিরিজের সময়ও বলেছিলাম যে আমাদের একটা বিরতি থাকব এবং এখনকার ক্রিকেটে ফিটনেস অনেক বড় একটা ব্যাপার, যেটা আমরা করেছি। ফিটনেসের প্রতি ফোকাস ছিল আমাদের সবার। ফিটনেসের পরে আমরা আমাদের স্কিলও উন্নত করার চেষ্টা করেছি। সব মিলিয়ে আমি যদি দেখি, আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো। এত ভালো সুযোগসুবিধাসহ প্রস্তুতি খুব কমই পাওয়া যায়। বাংলাদেশ দলের সবশেষ যে বিরতি ছিল, বিরতির পর থেকে খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। এই প্রস্তুতিপর্বে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল বিশেষজ্ঞ কোচ জুলিয়ান উডের তত্ত্বাবধানে পাওয়ার হিটিং নিয়ে কাজ। উড আগে দুই দফায় বিপিএলে কাজ করে গেছেন। তবে জাতীয় দলের ক্যাম্পে তার উপস্থিতি এবারই প্রথম। বাংলাদশের ব্যাটসম্যানদের একটি চিরন্তন দুর্বলতাও তাই এবার কিছুটা হলেও কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি বিভাগের ইনডোর স্পোর্টস সম্পন্ন
পরবর্তী নিবন্ধসিভাসুতে মাছের পুষ্টিতথ্য নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও কর্মশালা