যুদ্ধের পর এই প্রথম ভারত ও পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দেখা হল ঢাকায়– বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায়, কুশল বিনিময় করলেন তারা। এসময় কী কথা হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সেই কথপোকথনের একটা বর্ণনা দিয়েছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। খবর বিডিনিউজের।
চিরবৈরী দুই দেশের নেতাদের দেখা হয় গতকাল বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ ভবনে। সেখানে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করে সমাবেদনা জানান। পরে সন্ধ্যায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের এঙ পাতায় জয়শঙ্করের সঙ্গে সরদার আয়াজের হাত মেলানো ও শুভেচ্ছা বিনিমিয়ের বর্ণনা দেওয়া হয়। পরে সেটি রিপোস্ট করেছেন স্পিকার নিজেই। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শেষে গত মে মাসের পর এটিই দুই দেশের সরকারের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাক্ষাৎ।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে তাদের সাক্ষাৎ এবং কুশল বিনিময়ের খবর দিয়েছিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ লিখেছে, ‘বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ পরিদর্শনে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রয়াত খালেদা জিয়ার জন্য শোক বইতে সই করেছেন স্পিকার সরদার আয়াজ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জাতীয় পরিষদের স্পিকারের দিকে এগিয়ে আসেন এবং করমর্দন করেন। কথপোকথনের সময় জয়শঙ্কর নিজের পরিচয় দেন এবং স্পিকারকে বলেন, তিনি তাকে চিনতে পেরেছেন।’
এঙ পোস্টে বলা হয়, ‘এটি ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তান–ভারত সংঘাতের পর ভারতের দিক থেকে শুরু করা প্রথম কোনো উচ্চ পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য মিথষ্ক্রিয়া। এটা বলা গুরুত্বপূর্ণ যে, অতর্কিত আগ্রাসন ও উত্তেজনা প্রতিরোধে সংলাপ, সংযম এবং সহযোগিতাপূর্ণ পদক্ষেপের কথা পাকিস্তান অব্যাহতভাবে বলে আসছে। যার মধ্যে শান্তি আলোচনা ও পেহেলগামে পাতানো ঘটনার অভিযোগের যৌথ তদন্তের বিষয়ও রয়েছে।’
চিরবৈরী দুদেশের সরকারি পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে এমন চিত্র সামপ্রতিক সময়ে বিরল। চলতি বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর দুদেশের মধ্যে বিরোধ পৌঁছায় চূড়ান্ত মাত্রায়।
পাকিস্তানের স্পিকারের পাশাপাশি ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগিয়েলের সঙ্গে জয়শঙ্করের কুশল বিনিময়ের দুটি ছবিও প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।












