অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তেল সংকট শুধু বাংলাদেশের একার নয়। বৈশ্বিক এ সংকটের প্রভাব সারা বিশ্বকে আক্রান্ত করেছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। তেলের এ সংকট মোকাবিলা করার জন্য সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছি। কীভাবে এ সংকট মোকাবেলা করা যায় তার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। আমরা আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জালানি নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজড করব না। বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক ভালো আছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ দামে তেল ক্রয় করেও আমরা এখনো তেলের দাম বাড়াইনি। তবে এ অবস্থা চলতে থাকলে পুরো দেশের উন্নয়ন তথা সার্বিক অর্থনীতির উপর বিরাট প্রভাব পড়বে। এ পরিস্থিতি আমরা কতদিন ধরে রাখতে পারব বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে আমেরিকাসহ সব দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা বৃদ্ধি করিনি। তবে পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে আমাদেরকেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হবে। তবে বর্তমানে দেশে তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। বর্তমানে বৈশ্বিক এ সংকট মোকাবেলায় সরকার জ্বালানি তেলের ব্যবহারে সাশ্রয়ী কার্যক্রম শুরু করেছে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাইকে সাশ্রয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকালে কেইপিজেড ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পুঁজিবাজারের অস্থিরতার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা হবে। আমরা পুঁজিবাজারকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসব। বিনিয়োগকারীদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। শুধু তাই নয়, সরকার ধীরে ধীরে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, কোরিয়ান শিল্পগোষ্ঠী ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন শুধু শিল্পখাতে নয়, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সেই সাথে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনীতিতে ইয়ংওয়ান–কেইপিজেড বিরাট ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস এই ধারা আরো ব্যাপক আকারে চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
সিআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে এবং সিআইইউর সহকারী রেজিস্ট্রার রুমা দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোরিয়ান ইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ শাহজাহান। বক্তব্য রাখেন ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন ও কোরিয়ান ইপিজেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কিহাক সাং, সিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লুৎফি এম আইয়ুব, সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ইয়ংওয়ান কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ শাহিনুর রহমানসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।













