রেশনিং প্রত্যাহারের পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল কেনার চাপ কমছে না। কোথাও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ মিলছে না, কোথাও পাম্প বন্ধ থাকছে, আবার কোথাও সীমিত বিক্রি চলছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রতিদিন সমন্বয় করে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। খবর বিডিনিউজের।
কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি তেল বিপণনের তিন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে প্রতিদিন সকালে অনলাইনে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করছে জ্বালানি বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার থেকে এ বৈঠকে জেলা প্রশাসকদেরও যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে মাঠপর্যায়ের ঘাটতি দ্রুত ধরা যায়। একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কিউআর কোড, ব্যানার, স্কুলভিত্তিক প্রচার, উপাসনালয়ে বার্তা ও লিফলেট বিতরণের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মুনির হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিদিন এ সমন্বয় বৈঠক হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন, তেল বিপণন কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিদিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং যেখানেই সরবরাহে ঘাটতি ধরা পড়ছে, তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাশ্রয়ী ব্যবহার ও জনসচেতনতা বাড়াতেও নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো জেলার জেলা প্রশাসক যদি দেখেন তার এলাকার কোনো ফিলিং স্টেশন ডিপো থেকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম তেল পেয়েছে, তাহলে বৈঠকে সেই তথ্য তোলা হচ্ছে। তখন সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে এবং প্রতিটি স্টেশনকে বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আগের দিনের সরবরাহ পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য নিয়ে তা মন্ত্রী ও সচিবের কাছেও তুলে ধরা হচ্ছে। কোনো জেলায় বাড়তি সরবরাহের প্রয়োজন হলে সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যে শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। এ কারণে সাশ্রয়ী ব্যবহারে জনগণকে সম্পৃক্ত করাকেও এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য আগামী সপ্তাহ থেকে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে ব্যানারসহ একটি কিউআর কোড বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এই কিউআর কোড স্ক্যান করলে কোনো স্টেশন আগের সাত দিনে ডিপো থেকে কী পরিমাণ তেল তুলেছে, তা দেখা যাবে। ব্যানারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনা এবং সাশ্রয়ী ব্যবহারের আহ্বানও থাকবে।
একই সঙ্গে জ্বালানি বিভাগ স্কুলগুলোতে চিঠি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির কথাও ভাবছে। ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব বোঝাবেন এবং তারা যেন নিজেদের অভিভাবকদেরও সাশ্রয়ী হতে উৎসাহিত করে, সে বার্তা দেবেন। এর পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাধ্যমেও জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে লিফলেট ছাপিয়ে গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তা বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবু প্যানিক বায়িং ও অতিরিক্ত মজুদ প্রবণতার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার সক্রিয় রয়েছে। সরকারের নজর এখন শুধু গাড়ির জ্বালানিতে নয়, উড়োজাহাজ খাতেও। বিদেশি এয়ারলাইনগুলো বাংলাদেশ থেকে আগের তুলনায় বেশি জেট ফুয়েল নেওয়ায় সরকার তার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।












