মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তেল ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। একইসঙ্গে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পুলিশি টহল জোরদারের অনুরোধও জানিয়েছেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। তার স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক চিঠিতে এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
শনিবার পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে ডিলাররা হঠাৎ বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না–এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনাসহ খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের তেল ডিপোগুলোতে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো কেপিআই বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ কারণে উল্লিখিত ডিপোগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিপিসি মনে করছে।
অন্য এক চিঠিতে বিপিসি বলেছে, জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তার মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কিছু ভোক্তা ফিলিং স্টেশন থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।
বিপিসি বলছে, এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তা পর্যায়ে তেল বিক্রির পরিমাণ সীমিত করে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের সঙ্গে কর্মচারীদের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য দেশের সব ফিলিং স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি।










