জ্বলন্ত লঞ্চ থেকে লাফিয়ে বাঁচলেন পাথরঘাটার ইউএনও

| শনিবার , ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

ঝালকাঠিতে জ্বলন্ত লঞ্চ থেকে লাফ দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন পাথরঘাটার ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ। প্রাণে রক্ষা পেলেও লঞ্চের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে তার স্ত্রী উম্মুল ওয়ারার পা ভেঙে গেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠি পৌঁছানোর পর এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লেগে অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ ও আহত হন আরও অন্তত ৭২ জন। খবর বিডিনিউজের।
ইউএনও মুজাহিদ বলেন, তিনি ওই লঞ্চের নীলগিরি নামে একটা ভিআইপি কেবিনে ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী উম্মুল ওয়ারা। তারা ঢাকা থেকে ফিরছিলেন জানিয়ে ইউএনও বলেন, ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ সেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে লঞ্চে ওঠেন। রাত ৩টার দিকে লঞ্চের অন্য যাত্রীদের চিৎকারে ঘুম ভাঙে।
‘তখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। তড়িঘড়ি করে রুম থেকে বের হয়ে লঞ্চের সামনে যাই। সেখানে শতাধিক যাত্রীর ভিড় ছিল। লঞ্চটি এ সময় সুগন্ধা নদীর মাঝখানে ছিল। অনেককেই নদীতে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে।’
ইউএনও বলেন, আমরাও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন লঞ্চ থেকে লাফ দিই। আমি সরাসরি নদীতে পড়লেও উম্মুল ওয়ারা দোতালার রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে পানিতে পড়ে। রেলিংয়ে ধাক্কায় তার ডান পা ভেঙে যায়। অন্যদের মধ্যে বৃদ্ধ ও শিশুরাই বেশি হতাহত হন। এছাড়া অনেক নারীও নদীতে লাফিয়ে পড়েন। তারা তীরে উঠতে পেরেছেন কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছি। যারা ঘুমিয়ে ছিলেন এবং কেবিনে ছিলেন তারাই বেশি হতাহত হন বলে জানান ইউএনও। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ইউএনও বলেন, ঝালকাঠির হাসপাতালে উম্মুল ওয়ারার পা প্লাস্টার করে দিয়েছেন চিকিৎসক। সেখান থেকে তাকে নিয়ে দুপুর নাগাদ তিনি বরগুনার পাথরঘাটা কর্মস্থলের পথে রওনা হয়েছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাপ্তাইয়ে সুইডেন পলিটেকনিকের ছাত্রীর আত্মহত্যা
পরবর্তী নিবন্ধদেশে শনাক্তের হার ফের ২% ছাড়াল