জেলা আ. লীগের শীর্ষ নেতাদের সমীকরণে আটকে আছে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ কমিটি

সিভি জমা নিয়ে মহানগর ও চবি ছাত্রলীগ কমিটির বাছাই প্রক্রিয়া চলছে

শুকলাল দাশ | বৃহস্পতিবার , ২১ মার্চ, ২০২৪ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নানামুখী সমীকরণ মিলাতে পারছেন না ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সেই কারণে সব কিছু ঠিকঠাক হওয়ার পরও আটকে আছে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি।

গঠনতন্ত্র না মেনে গভীর রাতে বাঁশখালী উপজেলা ও পৌরসভাসহ চারটি ইউনিটে বির্তকিত কমিটি ঘোষণার পরপরই গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করা হয়। সেই থেকে গত ৬ মাস ধরে অভিভাবকহীন হয়ে আছে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ।

খবর নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ‘সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক’ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের করার জন্য দক্ষিণের আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের নানামুখী সুপারিশ রয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের) কাছে।

তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে এই ব্যাপারে কথা হলে তারা জানান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি প্রায় ঠিকঠাক হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কারণে তা আবার আটকে গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের একেকজনের পছন্দ একেক জন। সবার সাথে সমন্বয় করে প্রকৃত ছাত্রত্ব আছে এমন ত্যাগী মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই সহসভাপতি গতকাল আজাদীকে বলেন, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষনেতা সুপারিশ করেছেন যারা আগে ছাত্রলীগের কোনো ইউনিটেরও সদস্য ছিলেন না। তবে যারা পূর্বে ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না তাদেরকে কাউকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নাও রাখা হতে পারে। ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃবৃন্দ যেসব জেলায় নতুন কমিটি দিয়েছেনতাতে যারা ডাইনামিক, যাদের ছাত্রত্ব আছে, যাদের রাজনৈতিক ব্র্যাকগ্রাউণ্ড ভালো, আগের পদপদবীতে ছিলেন এমন ছাত্রদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বায়োডাটা জমা দিয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক পদপ্রত্যাশী। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের সাথে গত মাসে মতবিনিময় করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে ঘিরে দীর্ঘদিন পর দক্ষিণে ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলেনত্যাগী, যারা মেধা, দলের জন্য যাদের দায়বদ্ধ, এমন মেধাবী এবং ত্যাগীদের সমন্বয়েই কমিটি হবে বলে পদপ্রত্যাশীদের সাথে মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা আশ্বস্ত করেছেন।

দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী প্রার্থীদের তালিকায় আছেনবিগত কমিটির সহ সভাপতি জয়নাল আবেদীন (সাতকানিয়া), চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরীর ছেলে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী সালেহ উজ্জামান তানভির, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের গত কমিটির সহসভাপতি (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান) হোসাইন মাহমুদ পাভেল, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আলী, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এরশাদুর রহমান নিশাদ, কর্ণফুলী উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসাইন, শাহরিয়ার মুনির জিসান (বোয়ালখালী), মো. ইরফান উদ্দিন (সাতকানিয়া), রবিউল হায়দায় রুবেল (আনোয়ারা), বিগত কমিটির সহ সভাপতি ইয়াছিন চৌধুরী জনি (সাতকানিয়া), বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর জীবন (বোয়ালখালী), বোয়ালখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব রাসেল, বিগত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান চৌধুরী (বাঁশখালী)

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির জন্য পৃথকভাবে বায়োডাটা জমা নেয়া হয়েছে। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতিসাধারণ সম্পাদক পদের জন্য প্রায় ১৮শ’জনের মতো পদপ্রত্যাশী তাদের বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির জন্য জমা দেয়া বায়োডাটা যাচাইবাছাই করা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৪ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু ল’ ট্যাম্পল কলেজের ছাত্র এসএম বোরহান উদ্দিনকে সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র আবু তাহেরকে সাধারণ সম্পাদক করে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ৫১ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৪ মে এর প্রায় তিন বছর পর ২০২০ সালের ৪ মার্চ এসএম বোরহান উদ্দিনকে সভাপতি ও আবু তাহেরকে সাধারণ সম্পাদক ঠিক রেখে গঠনতন্ত্র অমান্য করে ২৭৬ সদস্যের দক্ষিণ জেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গঠনতন্ত্র না মেনে বাঁশখালী উপজেলা ও পৌরসভাসহ চারটি ইউনিটে কমিটি দেয়ার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই মূলত অভিভাবকহীন হয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে মেট্রো রেল প্রকল্পে তহবিল দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ
পরবর্তী নিবন্ধবর্তমানে একটি দল, একটি গোষ্ঠী বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে