বাংলা বর্ষপঞ্জিতে এখন পৌষ মাস। জেঁকে বসেছে শীত। কনকনে হিমশীতল হাওয়ায় নগরবাসীও যেন কুঁকড়ে যাচ্ছেন। সাধারণত গ্রামাঞ্চলেই শীতের প্রভাব একটু বেশি অনুভূত হয়। শীতে ছিন্নমূল পথশিশু এবং বিভিন্ন স্টেশনের ভবঘুরেদের একটু উষ্ণতার জন্য কাঠে আগুন ধরিয়ে শীত নিবারণে চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, সামনের কয়েকদিন তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। অপরদিকে শীতের সময় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গতকাল নগরীর কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালের দিকে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে মানুষজন গরম কাপড় চোপড় পরে চলাফেরা করছেন। আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দিনে সূর্যের দেখা মিলেছেও দেরিতে। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে ঠাণ্ডার মাত্রা কমে এলেও বিকেলের দিকে সেটি ফের বাড়তে থাকে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, ভারতের দিল্লি থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত কুয়াশা বিস্তৃতি লাভ করার কারণেই সূর্যের আলো ঢেকে গেছে। এ কারণে আগের কয়েকদিনের চেয়ে শীত লাগছে বেশি। গতকাল শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সন্ধ্যা ৬টার বুলেটিনে বলা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত কুয়াশার বিস্তৃতির কারণেই এটি ঘটছে। শনিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশেষ করে রাত ও ভোরের সময়, মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। জানা গেছে, সাধারণত যদি আশপাশের কমপক্ষে দুটি আবহাওয়া স্টেশনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে, কমপক্ষে দুদিন এমন নিম্নমুখী তাপমাত্রা অব্যাহত থাকে এবং স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থেকে যদি ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে, তখন তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলে যাবে। গতকাল চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি।
অপরদিকে শীত বাড়ার সাথে সাথে শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুরা। তাই হাসপাতালে দীর্ঘ হচ্ছে শীতকালীন রোগে আক্রান্তদের সারি। শীতকালীন রোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, শীত বাড়লে অ্যাজমা, শীতকালীন ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বরের হার বেড়ে যায়। তাই বিশেষ করে বাচ্চাদের দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত। এছাড়া বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে ভুগেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে রেসপিরেটরি ফেইলিয়র হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই সবাইকে গরম কাপড় পরতে হবে।











