চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এবং সাধারণ মানুষের উপর হামলায় জড়িতদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি জাতীয় সংসদে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকারী, জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, সে যে ড্রেস, যেটাই হোক, সেটা যে বাহিনীর ড্রেসেই হোক এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যুবলীগ, ছাত্রলীগ যারা যে বাহিনীর ড্রেসই পরুক, তারা সবাই অপরাধী।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী–২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়। মন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। না হলে আপনারা দায়ের করবেন। এবং সকল মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। জুডিশিয়ারির বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। খবর বিডিনিউজের।
রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নে জুলাইয়ের ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও বিচারের প্রসঙ্গ ওঠে। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, বিগত ইন্টেরিম গভার্নমেন্টের সময় ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ নামে একটা অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। সে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে এখানে মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে এ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সুখের বিষয় সর্বসম্মতিক্রমে আমরা এই জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশটা পার্লামেন্টে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে একমত হয়েছি।
জুলাইয়ের ঘটনাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবির প্রসঙ্গও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণ অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে অভ্যুত্থানকারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা করেছে, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে, কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে।
এরপর তিনি বলেন, সেখানে জুলাই যোদ্ধাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা এই অধ্যাদেশটি এখানে গ্রহণ করার জন্য সবাই সর্বসম্মত হয়েছি।
রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে জুলাইসহ বিভিন্ন সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রসঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্পেসিফিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিছু মামলা আইসিটি কোর্টে হয়েছে। কিছু মামলা সাধারণ আইনে, পেনাল কোডের আন্ডারে বিভিন্ন মামলা আদালতে আছে। সেগুলো ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে। কিছু কিছু বিষয়ে চার্জশিট হয়েছে।
শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে রায়ের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুয়েকটা মামলা এবং তার সহযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুয়েকটা মামলার রায়ও ঘোষিত হয়েছে। সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না–এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আদালত স্বাধীনভাবে তার বিচারকার্য পরিচালনা করবে। সেখানে আমরা কোনো ইন্টারফেয়ার করব না, করতে চাই না। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ এদেশের সকল গুম, খুন, হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যার বিচার হবেই।
পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ, যানবাহন, যন্ত্রপাতি, সিসি ক্যামেরা, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং অনলাইন জিডি ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মত কার্যক্রম চলছে।












