জুম্‌’আর খুতবা

অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি | শুক্রবার , ১৯ নভেম্বর, ২০২১ at ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ

গাউসুল আজম দস্তগীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (র.)’র জীবন ও কর্ম

সম্মানিত মুসলিম ভাইয়েরা!
আল্লাহ তা’আলাকে ভয়! করুন জেনে রাখুন, আল্লাহর ওলীগন আল্লাহর বন্ধু, যুগে যুগে বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় তাঁরা অসামান্য অবদান রেখেছেন। ওলীকুল সম্রাট কাদেরীয়া তরীক্বার প্রবর্তক, গাউসুল আজম হযরত আবদুল কাদের জিলানী (র.)’র জীবন-কর্ম শিক্ষা ও দর্শন বিভান্ত মানব জাতিকে দিয়েছে মুক্তির সঠিক নির্দেশনা।
আল কুরআনের আলোকে ওলীদের অনুসরণ: আউলিয়ায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরনের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে কুরআনুল করীমের বহুস্থানে বিঘোষিত হয়েছে, আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন, “হে মু’মিনগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গ অবলম্বন করো।” (আল কুরআন, ০৯, আয়াত: ১১৯)
ওলীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে এরশাদ হয়েছে, “সাবধান! নি:সন্দেহে আল্লাহর ওলীদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবেন না, যারা ঈমান স্থাপন করেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। পর্থিব জীবনে ও পরকালে, আল্লাহর বাণীর কোন পরিবর্তন নেই। এটিই মহা সাফল্য।” (সূরা: ইউনূস, আয়াত: ৬২-৬৪)
আল্লাহ তা’আলা আরো এরশাদ করেছেন, “হে মু’মিনগন, আল্লাহকে ভয় করো, এবং তাঁর দিকে ওসীলা অন্বেষণ করো।” (আল কুরআন, ৫, আয়াত: ৩৫)
হাদীসের আলোকে ওলীর পরিচয়: হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর অলীগণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বলেন, যাঁদের দেখলে আল্লাহর স্মরণ হয়। (নাসাঈ শরীফ, হাদীস নং: ১১২৩৫)
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেন, যে আমার ওলীর সাথে বিদ্ধেষ পোষণ করে, তার বিরুদ্ধ আমি যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। (বোখারী শরীফ, হাদীস নং: ৬৫০২)
গাউসে পাকের জন্ম: হযরত গাউসুল আ’জম শায়খ আবদুল ক্বাদের জিলানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ৪৭০, মতান্তরে ৪৭১ হিজরি মোতাবেক ১ রমজান (২৯ শাবান দিবাগত রাত) ১০৭৮ খৃষ্টাব্দে আল্লাহর শতসহস্র ওলীর স্মৃতি বিজড়িত পূণ্যভূমি জিলান শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। (তাযকিরায়ে মাশায়েখে ক্বাদেরিয়া, পৃ: ২২৭)
মাতা-পিতা: তাঁর বুজুর্গ পিতার নাম: হযরত সৈয়্যদ আবু সালেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত (র.), মাতার নাম: মহিয়সী রমনী হযরত সৈয়্যাদা ফাতেমা বিনতে সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ সাউমা’ঈ যাহিদ (র.) গাউসে পাক (র.) পিতৃকুল মাতৃকুল উভয় দিক থেকে তিনি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র বংশধর ছিলেন।
গাউসে পাকের উপাধি: গাউসে পাকের বেলায়তের পরিধি পৃথিবীর সর্বত্র বিস্তৃত। এ কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় তিনি বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত। যথাঃ গাউসুল আ’যম, মাহবূবে সুবহানী, গাউসে সমদানী, কুত্ববে রব্বানী, মা’শুক্বে হক্কানী, নূরে রহমানী, শায়খুল মাশায়িখ, গাউসুস্‌ সাক্বালাঈন, সাইয়েদুল আউলিয়া, ইমামূল আউলিয়া, শায়খুল ইনসে ওয়াল জিন্নে, ইমামুত ত্বরীক্বত, মুহিউস্‌ সুন্নাত, কামেউল বিদ্‌’আত, জামে’ঊল কামালাত, শায়খুস্‌ সা-মাই ওয়াল আরদ্বে, নূরে ইয়াযদানী, গাউসে গীলানী, পীরান-পীর দস্তগীর, শায়খ মহিউদ্দিন আবূ মুহাম্মদ সাইয়্যেদ আবদুল ক্বাদের জীলানী, আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি। (খযীনাতুল আসফিয়া,১ম খন্ড, পৃ: ৯৪, কৃত: মুফতি গোলাম সরওয়ার লাহোরী)
শিক্ষক মণ্ডলী: জাহের-বাতেন ইলমে দ্বীনের অধিকারী সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীর তত্ত্বাবধানে তিনি জ্ঞান সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর শিক্ষকমন্ডলীর মধ্যে যথাক্রমে-আল্লামা শায়খ আবুল ওয়াফা, আল্লামা আলী বিন তোফাইল, আল্লামা আবূ গালিব মুহাম্মদ বিন হাসান বাক্বিল্লানী, আল্লামা আবু যাকারিয়া ইয়াহ্‌য়া ইবনে আলী তাবরিযী, আল্লামা আবূ সা’ঈদ ইবনে আবদুল করীম, আবুল গানাইম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ও আবূ সা’ঈদ ইবনে মুবারক মাখযূমী রহমাতুল্লাহি আলাইহিম প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁর সম্মানিত শিক্ষকদের অনেকেই অসংখ্য ধর্মীয় গ্রন্থাবলীর প্রণেতা। বিশেষতঃ আল্লামা আবূ যাকারিয়া তাবরিযী ও আল্লামা বাক্বিল্লানী রহমাতুল্লাহি আলায়হিমা ইসলামী আদর্শ ও আরবী সাহিত্যের উপর তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলী সর্বজন স্বীকৃত। দীর্ঘ আট বৎসর পর্যন্ত তিনি এসব বিখ্যাত শিক্ষকমণ্ডলীর সার্বিক নির্দেশনায় নিজেকে প্রস্তুত করেন। ৪৯৬ হিজরীতে তিনি দ্বীনি জ্ঞানার্জনে পুর্ণতা লাভ এবং সমাপনী সনদ অর্জন করেন। (তাযকিরায়ে মাশায়েখে কাদেরিয়া)
জন্মদিনে শরীয়তের বিধান পালন: গাউসে পাক রাহমাতুল্লাহি আলায়হি জন্মদিনে শরীয়তের হুকুম পালন করে দিশেহারা জনগোষ্ঠীকে সঠিকপথের সন্ধান দিলেন। দিনটি ছিল শা’বান মাসের ২৯ তারিখ। আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। জীলানবাসীরা কেউ চাঁদ দেখেনি, সকলে রোযা রাখা না রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল। এমতাবস্থায় রাতের শেষাংশে সুবহে সাদিক্বের পূর্বেই ধরাধামে শুভাগমন করেন উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় নুরানী চেহারার শিশু সন্তান, মুসলিম মিল্লাতের রাহনুমা, হেদায়তের উজ্জ্বল রবি, মুক্তির দিশারী, হযরত আবদুল ক্বাদের জীলানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি। জন্মের পর সুবহে সাদিক্বের পর থেকে তাঁকে কিছু খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। এদিকে জীলানবাসীরা রোজা রাখা না রাখার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এতদসংক্রান্ত শর’ঈ ফয়সালা জানার জন্য গাউসে পাকের পিতার নিকট গমন করেন, পিতাকে না পেয়ে পর্দার আড়ালে থাকা আম্মাজানের নিকট মাসআলা জিজ্ঞেস করেন। বিচক্ষণ আম্মা বললেন, “আমার সদ্য প্রসূত নবজাত শিশুর অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে সে রোযা রেখেছে, কারণ আজকে সুবহে সাদিক্বের পর থেকে তাঁকে দুধ বা অন্য কিছু পান করানো আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
আমার মনে হয় আজকে রমজানের প্রথম তারিখ বিধায় সে রোজা রেখেছে।” আম্মাজানের বর্ণনা শুনে উপস্থিত জনতা আশ্চর্য হয়ে গেল এবং সংশয়ের অবসান হলো, সকলে রোযা রাখার সিদ্ধান্ত নিল। পরবর্তিতে জীলানের পার্শ্ববর্তী এলাকা হতে জানা গেলো যে, গত সন্ধ্যায় আকাশে রমযান শরীফের নূতন চাঁদ উদিত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হলো যে আল্লাহর ওলীগণের গোটা জীবন ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক পরিচালিত হয়। (আনোয়ারুল বয়ান)
বিশ্বজুড়ে গাউসে পাকের বেলায়ত বিস্তৃত: হযরত শায়খ আবুল কাশেম ইবনে আবু বকর ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি শায়খ খলীফা থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, “আমি স্বপ্নযোগে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম-ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলায়কা ওয়াসাল্লাম! হযরত আবদুল ক্বাদের জীলানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি যে বলেছেন, ‘আমার কদম পৃথিবীর সমস্ত ওলীর গর্দানের উপর;-একথা কি সত্য? হুযুর পুরনূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে এরশাদ করলেন,“এ কথা সত্য। আর তা বলবেনও না কেন? তিনি যুগের কুত্বব, আমি নিজই তাঁর নেগাহবানী করে থাকি।” (বাহজাতুল আসরার, ওয়া মাদিনুল আনওয়ার, মিশর, পৃ: ১০)
হযরত শায়খ কুতুব রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, তিনশত তেরজন ওলী সারা পৃথিবীতে একই সাথে হযরত গাউসুল আযমের পা মোবারকের নীচে মাথানত করেন, তন্মধ্যে মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফে ১৭ জন, ইরাকে ৬০ জন, ইডেনে ৪০ জন, সিরিয়াতে ৩০ জন, মিশরে ২০ জন, পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্যান্য দেশে ২৭ জন, পূর্বাঞ্চলীয় দেশে ২৩ জন, আবিসিনিয়াতে ১১ জন, এয়াজূজ মাজূজের প্রাচীর এলাকাতে ১৭ জন, সরন্ধীপে অর্থাৎ শ্রীলংকাতে ১৭ জন, কুহে ক্বাফে ৪০ জন, বাহরে মুহীত্বে ৪০ জন। (তাযকিরায়ে মাশায়েখে কাদেরিয়া, পৃ: ২৩৬)
ওয়াজ নসীহত: মানবাত্মার উন্নতি ও পরিশুদ্ধির জন্য হুযূর গাউসে পাক রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ওয়াজ, নসীহত-হেদায়তকে অন্যতম অবলম্বন মনে করে মানব মণ্ডলীকে ইসলামের পথে, কল্যাণের পথে, শান্তির পথে আহবান জানাতেন। তাঁর প্রদর্শিত পথ অনুসরণে মানবজাতির চরম উন্নতি সাধিত হয়। রাষ্ট্রীয় পদে অধিষ্টিত সমকালীন কর্তা ব্যক্তিরা তাঁর উপদেশ বাণীর যথার্থ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন করে দেশ ও জাতির প্রভূত কল্যাণ সাধন করেন।
তাঁরই আদর্শের সৈনিক ক্রসেড বিজয়ী মর্দে মুজাহিদ অকুতোভয় সিপাহসিলার গাযী সালাহ উদ্দীন আয়ূবী, নুরুদ্দীন যঙ্গী প্রমুখ মুসলিম সেনাপতি মুসলমানদের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ইতিহাসের মহা নায়কে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর স্বর্ণালী আদর্শের যাঁরা অনুসারী তাঁরা আজ বিশ্বব্যাপী স্মরণীয়-বরণীয়। সর্বত্র তাঁরা আজ নন্দিত। পক্ষান্তরে তাঁর আদর্শের শক্ররা আজ ঘৃণিত, নিন্দিত, ইতিহাসে কলঙ্কিত। (আনোয়ারুল বয়ান)
গাউসে পাকের রচনাবলী: আল গুনিয়াহ্‌ লিত্বালিবিল হক্ব, গ্রন্থটি ‘গুনিয়াতুত্‌ তালিবীন’ নামে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।, হিযবু বাশায়েরিল খায়রাত, আল ফুয়ূযাতুর রব্বানিয়্যাহ, আল-মাওয়াহিবুর রহমানিয়্যাহ, আল্‌ ফুতূহাতুর রহমানিয়্যাহ, জালাউল খাতির, সিররুল আসরার, দিওয়ানে গাউসুল আজম, ক্বসীদাতুল গাউসিয়া, মারাতিবুল ওয়াজূদ, তাফসীরুল কোরআনিল কারীম, ফুতূহুল গায়ব-এ গ্রন্থে সূফীতত্ত্ব ও মারিফাতের নিগৃঢ় রহস্যাদি এবং মূল্যবান উপদেশ সম্বলিত ৭৮টি ভাষণসহ সর্বমোট ৮০টি ভাষণ স্থান পেয়েছে। আল-ফাতহুর রব্বানী-গ্রন্থটি গাউসে পাকের ৬২টি সমাবেশের ৬২টি বৃক্ততা ও ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
ওফাত: ইসলামের এ মহান সাধক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব অলীকুল সম্রাট হযরত আবদুল ক্বাদের জীলানী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি ৫৬১ হিজরি সনে ১১ রবিউস্‌ সানী সোমবার ৯১ বৎসর বয়সে তাঁর মওলায়ে হাকিকীর সান্নিধ্যে গমন করেন।
হে আল্লাহ! আমাদের কে আপনার মকবুল বান্দাদের অন্তভূক্ত করুন, তাঁদের পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক নসীব করুন। আমীন।
লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী); খতীব,
কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ
মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন
কমল মুন্সীর হাট, পটিয়া, চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: নামাযে পুরুষেরা নাভীর নিচে হাত বাঁধবে নাকি বুকের উপর হাত বাঁধবে এ ব্যাপারে শরয়ী সমাধান জানতে চাই।
উত্তর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র অসংখ্য সহ্‌ীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত পুরুষরা নাভীর নিচে হাত বাঁধবে, বুকের উপর হাত বাঁধা সুন্নতের পরিপন্থী। হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর নাভীর নিচে রেখেছেন। (ইমাম আবি শায়বা আল মুসান্নাফ, হাদীস : ৩৯৩৮),হযরত মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনটি কাজ নবীদের মহান চরিত্রের অন্তর্ভূক্ত। ১. বিলম্ব না করে যথাসময়ে ইফতার করা; ২. বিলম্বে সাহরী ভক্ষণ করা; ৩. নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর নাভীর নিচে বাঁধা। (বদরুদ্দীন আইনী, উমদাতুলকারী, ৪/৩৮৯ পৃ.)-প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ, ইমাম মুনযির (রা.) (ওফাত ৩১৯ হি.) সূত্রে ইমাম ইসহাক ইবনে রাহবিয়্যাহ (র.) এতদসংক্রান্ত হাদীসগুলো ব্যাপক পর্যালোচনান্তে বলেন, নাভীর নিচে হাত বাঁধা সংক্রান্ত হাদীস গুলো অধিক শক্তিশালী। (মুনযির আল আওসাত ৩/৯৪, পৃ:)-ইমাম আবু বকর ইবনে আবী শায়বা বর্ণনা করেন, পুরুষরা নাভীর নিচে হাত বাঁধা সংক্রান্ত হাদীসের সনদ গুলো অতি উত্তম ও শক্তিশালী, এ সংক্রান্ত হাদীসের সকল বর্ণনাকারী নির্ভর যোগ্য।
খলীফায়ে আ’লা হযরত আল্লামা যুফরুদ্দীন বিহারী (র.) প্রণীত “সহীহুল বিহারী” হাদীস গ্রন্থে এ বিষয়ে অসংখ্য হাদীস উল্লেখ রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিশুর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা : ঔষধ বনাম থেরাপি
পরবর্তী নিবন্ধদূরের দুরবিনে