কুরআনের আলোকে রাসূলুল্লাহ প্রতি সম্মান ও মর্যাদার গুরুত্ব:
মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনন্য অসাধারণ মর্যাদায় মহিমান্বিত করেছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন, “নিশ্চয় আমি আপনাকে সাক্ষী সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং তাঁকে সম্মান ও মর্যাদা দাও। (সূরা: আল ফাতহ ৪৮, ৮–৯)
কুরআন ও হাদীসের পর্যালোচনায় একথা অনস্বীকার্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওসীলায় সমগ্র সৃষ্টিরাজি সৃষ্টি করেছেন, আসমান, জমিন, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, তৃণলতা, পাহাড়, পর্বত, নদ–নদী, কুল কায়েনাতের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৃষ্টি রাজির উৎস উপলক্ষ মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস সম্মান, আনুগত্য ও ভালোবাসা ঈমানের পরিচায়ক। তাঁর প্রতি অবজ্ঞা অসম্মান অপমান অশ্রদ্ধা দুনিয়া আখেরাতে লাঞ্ছনা ধ্বংস ও কুফরির নামান্তর। আল্লাহ তা’আলা মু’মিনদের কে পিতা–মাতা, ভাই–বোন, সন্তান, সন্তুতি, পরিবার, পরিজন, আত্মীয়, স্বজন, ধন–সম্পদ, ব্যবসা–বাণিজ্য, বাসস্থান, দুনিয়ার আকর্ষণীয় সকল বস্তুর চেয়ে তাঁর রাসূলের ভালোবাসাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য ও অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ করেছেন। ভালোবাসা কেবল দাবির নাম নয়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র মক্কী জীবন, মদনী জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, জাতীয় আন্তর্জাতিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহর অনুসৃত ও নির্দেশিত জীবনাদর্শের পূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণ করার নামই প্রকৃত ভালোবাসা। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন, হে মাহবুব, বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন, আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সূরা, আলে ইমরান, ৩:৩১)
হাদীসের আলোকে রাসূলুল্লাহর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসা:
হযরত মিসওয়ার ইব্ন মাখরামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত মারওয়ান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই উরওয়াহ্ ইবন মাসউদ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর সাহাবীদের দেখলেন যে, তিনি বলেন, আল্লাহ্র শপথ! যখনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম থুথু মোবারক ফেলতেন তখন কোনো কোনো সাহাবী তা হাতে নিতেন তখন তা নিজের মুখমণ্ডল ও শরীরে মালিশ করতেন। তিনি কোনো নির্দেশ দিলে তাঁরা তা পালন করতে দ্রুত এগিয়ে যেতেন। আর যখন তিনি ওযু করতেন তাঁর ওযুর পানি গ্রহণের জন্য তাঁরা প্রায় পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়তেন। যখন তিনি কথা বলতেন তখন তাঁরা তাঁর সামনে নিজেদের কন্ঠস্বর নিচু করে ফেলতেন। আর গভীর শ্রদ্ধার কারণে তাঁরা তাঁর দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাতেন না। অতঃপর উরওয়া তাঁর সাথীদের নিকট ফিরে গেলেন এবং তাদের বললেন ওহে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! আল্লাহ্র শপথ! আমি রাজা বাদশাহ্দের দরবারে প্রতিনিধি সহ গমন করেছি কিন্তু আল্লাহ্র শপথ! আমি রোম সম্রাট, পারস্য সম্রাট ও নাজ্জাশীর রাজ দরবারে গিয়েছি কিন্তু আল্লাহ্র শপথ! আমি এমন বাদশাহ্ দেখিনি যে, তার দরবারে তাকে সম্মান করতে যেরূপ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর সাহাবীগণ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করেন। (বুখারী, আস–সহীহ, কিতাবুল জিহাদ, হাদীস নম্বর–২৫৮১. আহমদ, আল মুসনাদ, হাদীস নম্বর–১৮৯২৮)
বর্ণিত হাদীস শরীফ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর প্রতি সাহাবা–ই কেরামের আদব, শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাহাবা–ই কেরাম হৃদয়ের গভীরে রাসূলুল্লাহ্র প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা ধারণ করতেন এবং তাঁর ব্যবহৃত জিনিসেও বরকত কামনা করতেন। সাহাবা–ই কেরাম নবীজির নির্দেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব করতেন না, বরং কে আগে পালন করবে সেই প্রতিযোগিতা করতেন।
দৃষ্টির আদব : সাহাবা–ই কেরাম শ্রদ্ধার কারণে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর প্রতি দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকতেন না। এটি তাঁদের গভীর ভক্তি ও শিষ্টাচারের বহিঃপ্রকাশ । রাসূলুল্লাহ্র প্রতি সাহাবা–ই কেরামের আদব ও ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় ছিল না বরং তা ছিল ঈমানের বাস্তব প্রকাশ। হাদীসের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, সাহাবা–ই কেরামের কাছে রাসূলুল্লাহ্র প্রতি ভালোবাসা, আদব আনুগত্য এবং শ্রদ্ধা ছিল ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর প্রতি হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র আদব ও ভালোবাসা:
নবীজির প্রতি হযরত সিদ্দীক আকবর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু–এর ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, হযরত সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, ‘‘হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু–এর ইন্তিকালের প্রধান কারণ ছিল রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর ওফাতের শোক ও যন্ত্রণা। তাঁর শরীর মোবারক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর বিচ্ছেদের কারণে ক্রমাগত দুর্বল হতে হতে এমনকি তিনি ওফাত বরণ করলেন।(ইমাম হাকিম : আল মুস্তাদরাক খণ্ড–৪, হাদীস নম্বর–৪৪৬৬)
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সর্বাধিক প্রিয় সাহাবী, আজীবনের সঙ্গী এবং হিজরতের সাথী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর ইন্তিকাল তাঁর হৃদয়ে গভীর আঘাত হানে, রাসূলুল্লাহ্র ওফাতের পরও খলীফাতুল মুসলিমীন হিসেবে তিনি মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেন। রিদ্দার ফিতনা দমন করেন, যাকাত অস্বীকারকারী ও ভণ্ডনবীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং আল ক্বোরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু অন্তরে সর্বদা নবীজির বিরহ্ বিচ্ছেদের বেদনা বহন করে চলতেন। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র হৃদয়ে নবীজির প্রতি ভালোবাসা এতো গভীর ছিল যে, নবীজির বিদায়ের শোক তাঁর শারীরিক অবস্থায় প্রচণ্ড প্রভাব ফেলেছিল।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর প্রতি হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু–এর ভালোবাসা:
সাহাবা–ই কেরাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে–
হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ্র শপথ! এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বললেন, এখন হে ওমর! তোমার ঈমান পূর্ণ হলো। (বুখারী শরীফ, হাদীস নম্বর–৬৬৩২)
হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু–এর অন্তরে রাসূলুল্লাহ্র প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত: হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে কুরাইশদের নিকট দূত হিসেবে মক্কায় পাঠালেন। কুরাইশগণ তাঁকে কা’বা তাওয়াফ করার সুযোগ দিলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম কা’বা তাওয়াফ করার আগে আমি কখনো কা’বা তাওয়াফ করব না। (বুখারী শরীফ, হাদীস নম্বর–২৭৩১)
হযরত উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কা’বা শরীফে উপস্থিত থেকেও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের আগে তাওয়াফ করেননি। এটি রাসূলুল্লাহ্র প্রতি তাঁর অসাধারণ আদব আনুগত্য ও ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর প্রতি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র আনুগত্য ও ভালোবাসা:
ইসলামের ইতিহাসে রাসূলুল্লাহ্র প্রতি আনুগত্য প্রেমময় ও আত্মত্যাগী সাহাবীদের অন্যতম হিসেবে হযরত মওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নাম অবিস্মরণীয়। সহীহ হাদীসে উল্লেখ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম হিজরতের সময় হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে মানুষের আমানত পৌঁছে দেয়ার জন্য মক্কায় রেখে যান। রাসূলুল্লাহ্ তাঁকে নির্দেশ দিলেন তাঁর বিছানায় শুয়ে থাকতে, হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর নির্দেশ পালন করেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর প্রতি গভীর ভালোবাসা, পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্যের সর্বোচ্চ নিদর্শন।
ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে খায়বরের যুদ্ধের পতাকা বহন:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর প্রতি গভীর ভালোবাসার স্বীকৃতি খায়বারের যুদ্ধে প্রমাণিত, হযরত সাহল ইবন সাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, খায়বর বিজয়ের পূর্বে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আগামীকাল আমি এই পতাকা এমন এক ব্যক্তির হাতে দেব যিনি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসেন এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালোবাসেন। আল্লাহ্ তাঁর হাত দিয়েই বিজয় দান করবেন। (বুখারী: হাদীস নম্বর–৩৭০১, মুসলিম: হাদীস নম্বর–২৪০৬)
অত্র হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন, এ ভালোবাসা জিহাদ, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল। হাদীস শরীফে হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে– রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তাঁর কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সমগ্র মানুষের চেয়েও অধিক প্রিয় হই। । (বুখারী: হাদীস নম্বর–১৫)
হে আল্লাহ্ আমাদের অন্তরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম–এর প্রতি ভালোবাসা নসীব করুন–আমীন
লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা–এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া ফাযিল (ডিগ্রী), বন্দর, চট্টগ্রাম। খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ।
[ইসলাম সম্পর্কিত পাঠকের প্রশ্নাবলি ও নানা জিজ্ঞাসার জবাব দিচ্ছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি। আগ্রহীদের বিভাগের নাম উল্লেখ করে নিচের ইমেলে প্রশ্ন পাঠাতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। Email : azadieditorial@gmail.com]
আবদুল মোতালেব
হালিশহর, বড় পোল, চট্টগ্রাম
প্রশ্ন: ইসলামি শরীয়তে পুরুষের জন্য স্বর্ণের চেইন পরিধান করা জায়েজ আছে কিনা? দলীল সহকারে জানালে কৃতার্থ হব।
উত্তর: ইসলামি শরীয়তে পুরুষের জন্য স্বর্ণ পরিধান জায়েজ নেই, মাওলা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা এক হাতে রেশম অন্য হাতে স্বর্ণ নিয়ে বললেন, এ দুটি আমার উম্মতের জন্য হারাম এবং নারীদের জন্য হালাল। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৫৭)
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফিকহ গ্রন্থ “দুররুল মুখতার” এ উল্লেখ রয়েছে, স্বর্ণ পরিধান পুরুষের জন্য হারাম, যদিও পরিমাণে অল্প হয়। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড:৬, পৃ: ৩৫৯)
ইমাম আহমদ রেযার “ফতোয়া রযভিয়্যার” বর্ণনা মতে পুরুষের জন্য স্বর্ণের চেইন বা অলংকার পরিধান জায়েজ নয়। এ বিষয়ে ফতোয়া রযভিয়্যায় আরও উল্লেখ আছে যে, এ সব বস্তু পুরুষদের জন্য হারাম ও নাজায়েজ এ গুলো পরিধান করে নামায পড়া মাকরুহ তাহরীমি। (ফতোওয়া রযভিয়্যা, খন্ড: ৭, পৃ: ০৩৭)











