দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দীর্ঘদিন পর নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় ‘জুনিয়র বৃত্তি’র সংখ্যা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতার হার ও এককালীন অনুদান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মাউশি। খবর বাসসের।
সমপ্রতি এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবের একটি সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে তা অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। এমনটাই জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক–১ অনুবিভাগ) সাইদুর রহমান।
তিনি জানান, মাউশি থেকে বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব আমরা পর্যালোচনা করছি। প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন হলে তা বাজেট বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগের অনুমোদন নেওয়া হবে। এই ধরনের একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মাউশির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫–১৬ অর্থবছরের পর থেকে দীর্ঘ ৯ বছর বৃত্তির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পথ মসৃণ করতে টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হলো। একই সঙ্গে বর্তমানে সারা দেশে মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক ও এককালীন টাকার পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো মাউশির প্রস্তাবনা বলা হয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী সরকারি ‘জুনিয়র বৃত্তি’ পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে, ট্যালেন্টপুলে ১৪ হাজার ৭০০ জন এবং ৩১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাচ্ছে। এই হার ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৫ হাজার ৪৪০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে, ১৭ হাজার ৬৪০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৩৭ হাজার ৮০০ জন সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাবে।
খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন অনুদান ৫৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে একজন শিক্ষার্থী প্রতি বছর মোট ১১ হাজার ৯২০ টাকা পাবে, যা বর্তমানে ৫,৯৬০ টাকা পাচ্ছে।
অন্যদিকে, সাধারণ কোটায় মাসিক ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক সুবিধা ৩,৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭,৯০০ টাকা হবে। এই সুবিধা এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ২ বছর ভোগ করা যাবে।












