জীবনের মৃত্যু আছে, কিন্তু কর্মের মৃত্যু নেই

শাহেদ সরওয়ার | মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের কর্ম অনন্ত। এই পৃথিবীতে যারা জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের মৃত্যু অবধারিত। মানুষ পৃথিবীতে চিরদিনের জন্য আসে না। জন্মের পর একদিন তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হয়। এটাই সৃষ্টির চিরন্তন নিয়ম। কিন্তু মানুষের জীবন শেষ হয়ে গেলেও তার কর্ম কখনো শেষ হয়ে যায় না। মানুষের ভালো কাজ কিংবা মন্দ কাজ সবই মানুষের মৃত্যুর পরেও সমাজে প্রভাব ফেলে এবং মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকে। তাই বলা হয়, জীবনের মৃত্যু আছে, কিন্তু কর্মের মৃত্যু নেই।

মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়ার সব মানুষই একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু একজন মানুষের কর্ম, চিন্তা, আদর্শ এবং অবদান বহু বছর ধরে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকে। একজন শিক্ষক তার ছাত্রদের মাঝে যে জ্ঞান রেখে যান, একজন লেখক তার বইয়ের মাধ্যমে যে চিন্তার আলো ছড়ান, একজন সৎ মানুষ তার সততা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে সমাজে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এসব কিছুই মৃত্যুর পরেও মানুষের মনে ও সমাজে অমর হয়ে থাকে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, অনেক মহান মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন বহু বছর আগে, কিন্তু তাদের কর্ম আজও মানুষকে পথ দেখাচ্ছে। তাদের আদর্শ, শিক্ষা এবং ত্যাগ আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মানুষ মরে গেলেও তার কর্ম সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে।

ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকেও কর্মের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। মানুষ মৃত্যুর পর তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু কিছু ভালো কাজের সওয়াব চলমান থাকে। যেমনমানুষকে উপকার করে যাওয়া, জ্ঞান দান করা, বা এমন কোনো সৎ কাজ রেখে যাওয়া যা মানুষের কল্যাণে আসে। এসব কাজ মানুষের মৃত্যুর পরেও তাকে উপকার করতে থাকে। তাই একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার ভালো কর্ম।

অন্যদিকে, খারাপ কাজও মানুষের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ক্ষতিকর প্রভাব রেখে যেতে পারে। কেউ যদি সমাজে অন্যায়, অবিচার বা ক্ষতিকর কিছু রেখে যায়, তবে তার প্রভাবও বহুদিন ধরে মানুষের জীবনে পড়ে। এজন্য প্রত্যেক মানুষের উচিত নিজের কাজের প্রতি সচেতন থাকা এবং এমন কাজ করা যা মানুষের উপকারে আসে। সুতরাং, মানুষের জীবনের সময় খুবই সীমিত হলেও তার কর্মের প্রভাব অসীম হতে পারে। তাই আমাদের উচিত এমন কাজ করা যা মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে, সমাজকে সুন্দর করে এবং আমাদের মৃত্যুর পরেও মানুষ আমাদের ভালোভাবে স্মরণ করে। কারণ জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও সৎ কর্মই মানুষকে প্রকৃত অর্থে অমর করে রাখে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅনলাইন কেনাকাটায় সতর্কতা চাই
পরবর্তী নিবন্ধচাঁদরাত