বণিক কাকার দোকানে যেতাম বাবার সাথে। একদম শৈশবের শুরুতে বাবা দোকানের সামনের ছোট্ট জায়গায় আমাকে বসিয়ে রেখে যেতেন। বাজার সেরে আবার নিয়ে যেতেন। আমি হরেক রকম মানুষ দেখে সময় কাটাতাম। কাকা টুকটাক কথা বলতেন ব্যবসার ফাঁকে। মাঝেমধ্যে স্টিকার দিতেন। হরেক রকম স্টিকার। কোনোটাতে শচিন টেন্ডুলকারের ছবি, কোনোটাতে ব্রায়ান লারা। থাকতো ড্রাগন কিংবা আলিফ লায়লা সিরিজের বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ। আমার কাছে তখন এ স্টিকারগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হতো। আর বণিক কাকাকে মনে হতে সবচেয়ে সুখী মানুষদের একজন। ঘরে এসে পেপার আংকেলের দেওয়া দৈনিক ইত্তেফাকের টারজান কমিক্স দেখতাম। খুটিয়ে খুটিয়ে পড়তাম। বাবা দৈনিক ইত্তেফাকের একনিষ্ঠ পাঠক ছিলেন।
সময় গড়িয়েছে। নতুন নতুন পর্ব যোগ হয়েছে জীবনে। আমাদের জীবন সাজাতে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তির নানা কলাকৌশল। তবুও যেন আমরা আমাদের আগের প্রজন্ম থেকে পিছিয়ে। জীবনের পিছনে দৌড়াতে গিয়ে হয়তো আমরা সচ্ছলতার মুখ দেখেছি, কিন্তু সুখ স্বস্তি বিমুখ হয়েছে আমাদের কাছ থেকে। কেউ যেন নিজের জায়গায় ঠিক পরিতৃপ্ত নয়।












