আমাদের দেশে ফলমূল থেকে তরিতরকারি; সবকিছুই বাছাই করে কেনার একটা রেওয়াজ আছে! ব্যাপারটা ঠিক ‘ভালো না খারাপ, টাটকা না বাসি’ সেটা পরখ করে দেখে বাছাই করা না, অনেকগুলো জমজ পণ্য থেকে ‘জিতছি না ঠকছি’ সেই হিসেব–নিকেশ করে দেখে–বেছে নিজের জন্য কিনে নেওয়া। এই যেমন বরই, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, কমলা, পেয়ারা এহেন জিনিসগুলো কেনার সময় বড় না ছোট, দাগসহ–দাগহীন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে দেখে–শুনে নেওয়া, এই আর কি! তবে বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা ধৈর্য সহকারে সঠিক পণ্য চিনে বুঝে শুনে কিনে নিতে পারেন, তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখেন। এক্ষেত্রে আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনই কোনো কিছু নিজে বেছে কিনতে পারিনি! প্রথমত ধৈর্য নেই, দ্বিতীয়ত লজ্জা লাগে, আর সর্বশেষ এবং আসল কারণ হলো, ‘আমি সঠিক পণ্য চিনি না।’
যতবারই নিজের পাকনা বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে জিনিস কিনে তা থৈ তা থৈ করে ঘরে ফিরেছি, বরাবরই বাড়ির লোকের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছি। ঠিক এ কারণেই যখন এমন বাছ–বিচার করে কিছু কেনার মুহূর্ত এসেছে, আমি ‘বিশ্বাস’ এর আশ্রয় নিয়েছি। অকপটে দোকানিকে বলেছি, আপনার ঈমানে যেইটা ভালো মনে হয় সেইটাই দেন, আপনার উপর বিশ্বাস রেখে নিতেছি। এভাবে বহুবার ঠকে গেলেও, জিতেছি তারও আরত্তবার! কেবল এমন দ্বৈধীভাবস্থার ক্ষেত্রেই নয়; জীবনে যখন যেখানে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, আমি ‘বিশ্বাস’ এর আশ্রয় নিয়েছি। একদিন এক দোকানী এক কেজি কমলা ওজন করতে করতে বললেন দেখে নেন, আমি বললাম, ‘আপনার উপর বিশ্বাস রেখে নিচ্ছি, মনে হচ্ছে আপনি ঠকাবেন না।’
দোকানী হুট করে সব কমলা রেখে দিয়ে আবারও বেছে বেছে কিছু কমলা নিয়ে নতুনভাবে ওজন করে তবেই দিলো!
এভাবে একটি মানুষ কে একজন ‘বিশ্বাসী মানুষের’ ভূমিকায় ফেলে দিলে সম্ভবত তার প্রচ্ছন্ন ভালো সত্ত্বা অকস্মাৎই জেগে ওঠে! চাইলেও সে হয়ত তার খারাপ সত্ত্বার ‘উপযুক্ত‘ ব্যবহার করতে পারে না। এই আমরাই উপযুক্ত সময়ে জীবনের সকল হিসেব–নিকেশ, ভূত–ভবিষ্যৎ কে অতীত করে নিতান্তই ‘অনুপযুক্ত‘ মানুষটির উপর বিশ্বাস রাখতে পারি না বলে হয়ত পরিস্থিতির কারণে একটা বিগড়ে যাওয়া মানুষ আরও ধ্বংসের দিকে পতিত হয়! আমরা অভিভাবক হয়ে পড়াশুনায় ভালো করছে না, অসৎ সঙ্গ কিংবা অন্য কোনো কারণে চারিত্রিক স্খলন হয়েছে এমন সন্তানের উপর বিশ্বাস রাখতে পারি না। শিক্ষক হয়ে পিছিয়ে পরা শিক্ষার্থীর উপর বিশ্বাস রাখতে পারি না। জীবন যুদ্ধে হুট করে পিছিয়ে পরা আপন মানুষের উপর বিশ্বাস রাখতে পারি না! অথচ, আমি ‘বিশ্বাস করি‘ তুমি খারাপ হতে পারো না, কিংবা আমি ‘বিশ্বাস করি‘ তুমি ভালো করবেই; ‘আমি বিশ্বাস করি‘ এই তিনটি শব্দ আমাদের এবং আমাদের চারপাশের কিছু মানুষের একটা মুহূর্ত কিংবা পুরো জীবনটাই হয়ত বদলে দিতে পারে!












