জীবনটাকে এমনভাবে গড়তে হবে, যাতে আমার জন্য অন্যের চোখে জল ঝরে

ভাষাসৈনিক বদিউল আলম স্মরণসভায় আজাদী সম্পাদক

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১১ অক্টোবর, ২০২৩ at ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

দৈনিক আজাদী সম্পাদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সংবাদব্যক্তিত্ব এম এ মালেক বলেছেন, বাঁচার জন্য বেঁচে থাকাটা জীবনের মূল লক্ষ্য হতে পারে না। জীবনটাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমার জন্য অন্যের চোখ থেকে জল ঝরে। এমন সফল একজন মানুষ ছিলেন বদিউল আলম চৌধুরী। যার নামের মাঝেই আছে জীবনের সার্থকতা। তার নামের অর্থ অনন্য সফল এবং অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী। বদিউল আলম চৌধুরী একজন ভাষাসৈনিক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক। চট্টগ্রামের যে ক’জন ব্যক্তিত্ব ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের অন্যতম বদিউল আলম চৌধুরী। তিনি ছিলেন অনেকেরই বিপদের বন্ধু। সবার একান্ত আপনজন। তার আন্তরিকতা, দয়া ও মমতার পরশ ছিল সবার জন্য। তাকে বলা যায় নিষ্ঠাবান সমাজসেবী, সমাজমনস্ক ব্যক্তিত্ব, কল্যাণ চিন্তার অগ্রসেনানী, অক্লান্ত শিক্ষা প্রচারক ও বিজ্ঞানমনস্ক স্বদেশপ্রেমী। নীরবেই তিনি কাজ করে গেছেন মানবতার কল্যাণে।

ভাষাসৈনিক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী বদিউল আলম চৌধুরীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। অধ্যাপক কাজী শাহাদাত হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ভাষাসৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিযামউদ্দিনের সঞ্চালনায় গতকাল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক লায়ন গভর্নর ও আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক নজমুল হক চৌধুরী।

এম এ মালেক বলেন, বদিউল আলম চৌধুরী সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে সরাসরি সম্পৃক্ত করে সবসময় মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। মানুষের কল্যাণার্থে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেসব সংগঠনের উন্নয়ন করেছেন। এক্ষেত্রে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির (এমইএস) উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের কথা উল্লেখযোগ্য। বিনিময়ে নয়, নিঃস্বার্থভাবে অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে গেছেন সমাজের জন্য।

তিনি বলেন, বদিউল আলম চৌধুরী সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পালন করেছেন সৈনিকের ভূমিকা। অন্যায়কে মেনে নেননি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে কাজ করেছেন। সাহসের সাথে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। মানুষের সমস্যার সমাধান দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন খানের লেখা থেকে উদ্ধৃতি টেনে বলেন, বদিউল আলম চৌধুরী মানুষের সার্বিক কল্যাণ, শুভবোধ উন্মেষে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন সর্বপ্রকার জুলুমের বিরুদ্ধে এক লড়াকু সৈনিক। আসলে বদিউল আলম চৌধুরী ব্যক্তিত্ব দিয়ে মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। জয় করেছেন মানুষের মন। যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে তিনি সকল দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজের সকল স্তরের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। সব মিলিয়ে বদিউল আলম চৌধুরী সকল দল ও মতাদর্শের মানুষের কাছে এক প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

প্রধান বক্তা নজমুল হক চৌধুরী বলেন, কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। লোভ, হিংসা, দ্বেষ, ঘৃণা তাদের স্পর্শ করে না। নিজের কথা না ভেবে পরের জন্য মনপ্রাণ ঢেলে তারা গেয়ে চলেন জীবনের জয়গান। তাদের জীবনের লক্ষ্যই থাকে সকলকে নিয়ে সকলের তরে বাঁচা। ভাষাসৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী ছিলেন তেমন এক ব্যক্তিত্ব। রাজনীতি, সমাজ নীতি সর্বক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বর্তমানে এ অবক্ষয়ের যুগে তরুণ প্রজন্মকে বদিউল আলম চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে হবে। তবেই এ জাতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ও দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, সাংবাদিক জাহেদুল করিম কচি, মো. ইস্কান্দর আলী চৌধুরী ও সিরাজুল করিম মানিক, শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর ও অসিত দাশপ্রমুখ। বদিউল আলম চৌধুরীর জীবনালেখ্য তুলে ধরেন তার কন্যা ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুদ্ধের নামে ফিলিস্তিনিদের জিম্মি করা কখনো সমীচীন নয় : তথ্যমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধআন্তঃকর অঞ্চল ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু