চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনার জাহাজ বার্থিংয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিষয়টি দ্রুত সুরাহার আহ্বান জানিয়েছে বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস ও টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিওএসটিএ)। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত একটি পত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, জেনারেল কার্গো বার্থে (জিসিবি) জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেখানে কার্যরত অপারেটর ও হাজারো শ্রমিক চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অপরদিকে চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালে (এনসিটি) বার্থিং দেয়া জাহাজের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়।
বিওএসটিএ’র চেয়ারম্যান ফজলে একরাম চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানকে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করেন,
জেনারেল কার্গো বার্থ এলাকায় জাহাজ আসা কমে যাওয়ায় অপারেটরদের আয় কমেছে। ফলে দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকদের আসন্ন বোনাস ও বেতন বৃদ্ধি নিয়েও বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, যেখানে জেনারেল কার্গো বার্থে জাহাজ কমছে, সেখানে নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কন্টেনার টার্মিনালে (সিসিটি) জাহাজ ও কন্টেনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এতে একই বন্দরের ভেতরেই একটি বড় বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
বিওএসটিএ’র চিঠিটির সঙ্গে গত অক্টোবর–ডিসেম্বর সময়কালের একটি তুলনামূলক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়। যেখানে দেখানো হয়, তিন মাসে এনসিটির চারটি টার্মিনালে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৭৩ বঙ, সিসিটির দুইটি টার্মিনালে ৫৭ হাজার ৯৫০ বঙ এবং জিসিবি’র ৬টি বার্থে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩৩ বক্স কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।
এ হিসাবে মাত্র ৪টি টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও এনসিটি একাই ৬টি জেনারেল কার্গো বার্থের চেয়েও প্রায় ৮০ হাজার বঙ বেশি কন্টেনার হ্যান্ডলিং করেছে, যা জেনারেল কার্গো এলাকার দুরবস্থার স্পষ্ট প্রমাণ বলে দাবি সংগঠনটির।
কাজ কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, জেনারেল কার্গো বার্থে কাজ করা হাজারো শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ এখন চরম ঝুঁকিতে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শ্রম অসন্তোষ ও অপারেশনাল অচলাবস্থারও আশঙ্কা রয়েছে।
সংগঠনটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে এনসিটি ও সিসিটি কন্টেনার টার্মিনাল এবং জেনারেল কার্গো বার্থের মধ্যে জাহাজ বরাদ্দ নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, জাহাজের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হলে জেনারেল কার্গো বার্থের কার্যক্রম আবারও গতি পাবে এবং শ্রমিকদের জীবিকাও রক্ষা পাবে।
চিঠিতে বন্দর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও সহানুভূতিশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সংকটের সমাধান করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়েছে, এতে বন্দরের সব সেক্টরের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল বিওএসটিএ’র চেয়ারম্যান ফজলে ইকরাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জিসিবি’র ছয়টি বার্থ যেখানে গিয়ার্ড কন্টেনার জাহাজ হ্যান্ডলিং হয় সেখানে জাহাজের সংখ্যা আশংকাজনক হারে কমে গেছে। এতে আমাদের কাজকর্মে ধস নেমেছে। শ্রমিকদের বেতন বোনাস তো দূরের কথা আমরা পরিচালন ব্যয় মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছি। সামনে শ্রমিকদের বোনাস এবং বেতন বৃদ্ধির একটি ব্যাপার রয়েছে। সেটা না হলে বন্দরে শ্রম অসন্তোষ দেখা দেবে। আমরা পুরো ব্যাপারটি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। জিসিবিতে জাহাজের সংখ্যা কমলেও সিসিটি এবং এনসিটিতে জাহাজের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে উল্লেখ করে ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, শুধু গত বছরের প্রোডাক্টিভির রিপোর্ট দেখলে দেখবেন আমরাও ওদের সমান এবং ক্ষেত্রবিশেষে বেশি কন্টেনার হ্যান্ডলিং করেছি।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বৈষম্যের কিছু নেই। বার্থিং নীতিমালা অনুসরণ করেই বন্দরের বিভিন্ন বার্থে জাহাজ বার্থিং দেয়া হয়। সিসিটি এবং এনসিটি অবকাঠামোগত এবং ইক্যুইপমেন্ট সুবিধার কারণে কিছু বাড়তি সুবিধা হয়তো পাচ্ছে। সেখানে গ্যান্ট্রি ক্রেন রয়েছে, জেসিবিতে গ্যান্ট্রি ক্রেন নেই। গিয়ারলেস (ক্রেন নেই এমন জাহাজ) জাহাজগুলোকে জিসিবিতে বার্থিং দেয়ার কোনো সুযোগই নেই।












