মীরসরাইয়ে জায়গা–জমি সংক্রান্ত্র বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মারামারির এক পর্যায়ে তিন বছরের এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। শিশুটির নাম আব্দুল্লাহ। সে ছিল নুরুল আলম রাসেল নামের এক ব্যক্তির একমাত্র সন্তান। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় মস্তাননগর এলাকার মোস্তফা ভুঁইয়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নুরুল আলম রাসেল বলেন, “দ্বীন ইসলামের পরিবার কিছুদিন আগে ঘর তোলার সময় আমাদের বাড়ির সীমানার ভেতরে বাড়ি তোলে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ হয়। আমরা আদালতে মামলাও করি। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তারা বাড়ি নির্মাণ সাময়িক বন্ধ রাখলেও বুধবার সকালে তারা আবার নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমার মা ঘর নির্মাণে তাদের বাধা দেন। এসব নিয়ে মায়ের সঙ্গে দ্বীন ইসলামদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দ্বীন ইসলাম আমার মায়ের পাশে থাকা শিশু আবদুল্লাহর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আহত অবস্থায় ছেলেকে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।’ তবে প্রতিপক্ষের দাবি, ঝগড়ার সময় শিশুটির দাদা নিজ নাতিকে চিনতে না পেরে আছাড় দিলে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে শিশুর দাদী জোৎস্না আরা বেগম বলেন, আমাদের জায়গায় প্রতিপক্ষের লোকজন ঘর তুলছিল। আমি বাধা দিতে গেলে দ্বীন ইসলাম, তার ভাই ও স্ত্রী মিলে আমাকে মারধর করে। পরে তারা আমার স্বামীকে মারতে যায়। আমি বাড়িতে ফেরার সময় দেখি আমার নাতি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। দ্বীন ইসলামরাই আমার স্বামীকে না পেয়ে নাতিকে আছাড় দিয়ে মেরে পালিয়েছে। আব্দুল্লাহ এর দাদা মোস্তফা বলেন, আমি কেন মারব? আমার একমাত্র নাতি সে। দ্বীন ইসলামই ওকে আছাড় দিয়ে ফেলে রেখে গেছে। এখন আমি মেরেছি বলে আমাকে ফাঁসাতে চাইছে।
দ্বীন ইসলামের স্ত্রী বলেন, ‘দুই পরিবার ঝগড়া লাগছে, এরপর বাচ্চাটার দাদি চিৎকার করে বলতেছে, নাতিকে মেরে ফেলছে, আমরা জানিও না শুনিও নাই, পুলিশ এসে আমার স্বামীকে আর শাশুড়িকে নিয়ে গেছে। আমরা কেউ ঘটনার সময় ছিলামও না। এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, পারিবারিক কলহে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উভয় পরিবারের ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে । লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।












