জাল রপ্তানি কাগজপত্র তৈরি করে ৩৯ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

দুদকের অনুসন্ধান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মালিকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

চীন থেকে আনফিনিসড টাইলস পণ্য (কাঁচামাল) আমদানির কথা থাকলেও আনা হয়েছে ফিনিসড টাইলস। বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে সেটি হয়নি। বরং জালজালিয়াতির মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করে ৩৯ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বাংলাদেশতাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমন জালিয়াতির বিষয়টি উঠে এসেছে দুদকের অনুসন্ধানে। এরই প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির সাথে সমপৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট মালিকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা১ এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন। মামলার আসামিরা হলেনহাসান শরিফ, জিয়া উদ্দিন, খাজা শাহাদতউল্লাহ, জিয়াউর রহমান, আদিল রিজওয়ান, খায়রুজ্জামান, শহিদুল হক, হাসান শাহীন, দীপান্বিতা বড়ুয়া ও সুরীত বড়ুয়া। মামলার এজাহারে বলা হয়, বাংলাদেশতাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড একটি শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৩ সালে বন্ড সুবিধার আওতায় নিবন্ধিত হয়। সেই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড সুবিধার আওতায় আনফিনিসড টাইলস পণ্য (কাঁচামাল) আমদানির কথা। কিন্তু অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে যেপ্রতিষ্ঠানটি কর্তৃক ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে আনফিনিসড টাইলস হিসেবে ২২ হাজার ৯৪৩ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন সম্পূর্ণ তৈরিকৃত টাইলস আমদানি করা হয়েছে। উক্ত আমদানিকৃত টাইলস’র একটি চালান শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃক স্থগিত করে কায়িক পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ এবং পরবর্তীতে তা পরীক্ষা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। উক্ত পরীক্ষায় পণ্যগুলো ফিনিশড টাইলস বলে প্রতীয়মান হয়। এজাহারে বলা হয়, বন্ড নীতি অনুসারে আমদানিকৃত পণ্য প্রসেসিং করে শতভাগ রপ্তানি করার কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি উক্ত আমদানিকৃত টাইলস’র বিপরীতে ৮০টি বিল অব এঙপোর্টের মাধ্যমে রফতানি করা হয়েছে দেখালেও সংশ্লিষ্ট অফডক প্রতিষ্ঠান ও শিপিং এজেন্টরা নিশ্চিত করেছে, এসব বিল অব লেডিং (বিএল) জাল। গোল্ডেন কন্টেইনার ও ইনকন্ট্রেড লিমিটেড জানায়, তাদের মাধ্যমে কোনও রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টরাও বি/এল ইস্যু না করার কথা জানায়। এ ছাড়া চালান পরীক্ষণকারী দুই রাজস্ব কর্মকর্তার সই জাল করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরো বলা হয়, বন্ড কমিশনারেটের অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করলে দেখা গেছে যেবাংলাদেশতাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময় নানা অনিয়ম করেছেন। বিভিন্ন সময়ে বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত টাইলস’র মজুদে গরমিল পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি রপ্তানির জন্য আমদানিকৃত টাইলস স্থানীয় খোলা বাজারে বিক্রি করেছেএমন প্রমাণ রয়েছে। দণ্ডবিধি অুনযায়ী যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ জানিয়েছে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা শুল্ক ফাঁকির এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাসের ধাক্কায় কন্টেনারবাহী লরি উল্টে ১০ কিমি যানজট
পরবর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীতে ৭ কিরিচসহ গ্রেপ্তার দুই, অভিযানে এসআই আহত