চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আজ পৃথক পাঁচটি নির্বাচনী জনসভা করবে জামায়াতে ইসলামী। এতে বক্তব্য রাখবেন জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সভা থেকে তিনি দলের প্রার্থীদেরও পরিচয় করিয়ে দেবেন। চট্টগ্রামসহ প্রতিটি জনসভাই জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে দাবি করেছেন জামায়াতের শীর্ষ নেতারা।
এদিকে জনসভা ও দলের আমীরের আগমনকে ঘিরে উজ্জ্বীবিত জামায়াত ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা। উচ্ছ্বাস দেখা গেছে তাদের মধ্যে। সমাবেশ সফল করতে নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জামায়াত। তৈরি হয়েছে মঞ্চও। এছাড়া দলের আমীরের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মিছিলও হয়েছে।
জামায়াতের দাবি, জামায়াত আমীরের জনসভা ঘিরে চট্টগ্রাম–কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বস্তরের ভোটাররা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা আরো উদ্দীপনায় জেগে উঠেছেন।
জামায়াত ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী জনসভাগুলোর মধ্যে বেলা ১১টায় লোহাগাড়া পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, দুপুর ২টায় সীতাকুণ্ড সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে অনুষ্ঠেয় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন জামায়াতের আমীর। এর আগে সকাল ৯ টায় মহেশখালীর নতুন বাজার প্রাথমিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়া গোল চত্ত্বর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভা শেষ করে রাতে জামায়াতের আমীর বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন।
এদিকে গতকাল সকালে চট্টগ্রামের বন্দর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এসময় তিনি আমীরে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা সফল করার জন্য সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনসভা দেশবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল এন্ড কলেজের মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হবে উল্লেখ করে তিনি এ জনসভাকে শান্তিপূর্ণ ও সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসী সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামীকালের জনসভায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মাধ্যমে তা আবারও প্রমাণিত হবে।
নির্বাচনী জনসভা সফল করতে কোতোয়ালী থানা জামায়াত স্বাগত মিছিল করেছে পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায়।
জনসভার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রতিটি জনসভাই জনসমুদ্রে পরিণত হবে। জনসভাকে কেন্দ্র করে, আমিরের সফরকে কেন্দ্র করে সর্বত্র একটা সাজ সাজ রব আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সকল নেতাকর্মী, সমর্থক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জনসভা সফল করতে মাঠে কাজ করছে।
তিনি বলেন, এটা ঠিক যে, খুবই কম সময়ের মধ্যে আমাদের ৫টি জনসভা কাভার করতে হবে। আমরা সেন্ট্রালি কোনো প্রোগ্রাম না নিয়ে এতগুলো জনসভা করার কারণ হচ্ছে, আমরা বেশি ভোটারের কাছে পৌঁছতে চাই। সেন্ট্রালি জনসভা করলে আমরা যাদের কাছে পৌঁছতে পারতাম, এখন এই পাঁচটি জনসভার মাধ্যমে দশগুণ মানুষের কাছে আমরা পৌঁছতে পারব বলে মনে করি। বেশি মানুষের কাছে পৌঁছার এই টার্গেটকে সামনে রেখে আমিরের কষ্ট হলেও, আমাদের ম্যানেজমেন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আমরা পাঁচটি জনসভা হাতে নিয়েছি।
কক্সজবাজারে চাঙ্গা ১১ দলীয় জোট : আজাদীর কক্সবাজার প্রতিনিধি শাহেদ মিজান জানান, চলমান নির্বাচনী প্রচারণায় রেকর্ড করে কক্সবাজার জেলায় দুই জনসভায় ভাষণ দেবেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আজ সোমবার অনুষ্ঠেয় জনসভার একটি মহেশখালীতে; যেখানে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। যেখানে শুধুমাত্র মহেশখালী–কুতুবদিয়ার লোকজন অংশ নেবেন। এছাড়া জেলা শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে (গোলচত্বর) হবে মূল জনসভা; যেখানে পাঁচ লক্ষাধিক লোক সমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার সব উপজেলা থেকে এখানে লোকজন অংশ নেবেন। দুটি জনসভাই ১১ দলীয় জোটের ব্যাপারে অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতের জেলা নেতৃবৃন্দ এই তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা জামায়াতের থেকে জানানো হয়েছে, ১১ দলীয় জোটের প্রধান জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের এই সফর কক্সবাজারের নির্বাচনী মাঠে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই জনসভা ঘিরে কক্সবাজারে ভোটের মাঠে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট সমর্থিত লোকজন ব্যাপক চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। এসব জনসভা ভোটের হিসেবে ভিন্ন মাত্রা সৃষ্টি করবে।
১১ দলীয় জোট থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। এসময় তার সাথে থাকবেন ১১ দলের অংশীদার এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এরপর রওয়ানা হবেন কক্সবাজার জেলা শহরের বিশাল জনসভায়। গতকাল রোববার কক্সবাজার শহরের জনসভা মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, জামায়াত আমীরের সফরকে ঘিরে মুক্তিযোদ্ধা মাঠের জনসভায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। জনসভাকে কেন্দ্র করে মানুষের ঢল মাঠ ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হবে।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াত আমীর দেশের প্রতিটি মহানগর ও জেলায় সফর করছেন। সেই ধারাবাহিকতায় দলীয় ইশতেহার ঘোষণা, সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি কক্সবাজারে আসছেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের চারটি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন চার জামায়াত নেতা। তারা হলেন, কক্সবাজার–১ আসনে কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার–২ আসনে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, কক্সবাজার–৩ আসনে শহীদুল আলম বাহাদুর এবং কক্সবাজার–৪ আসনে রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী।












