জামায়াতে ইসলামী জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে : সালাহউদ্দিন

একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাড়ায় এনে প্রমাণ করতে চায় তাদেরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে

চকরিয়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ

জামায়াতে ইসলামী একটি প্রতারক দল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। দলটি নিয়ে তিনি আরও বলেনএই দল দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাদের মুখে আবার নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান শুনতে হচ্ছে। যারা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা সঠিক ইতিহাস বলবে না। যা বলে বিকৃত ইতিহাসই। এখন আবার একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাড়ায় এনে প্রমাণ করতে চায় তাদেরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে। এটি একটি প্রতারক দল। জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে। গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক সংস্কার এবং দেশের স্বাধীনতাসার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি এদেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। যখনই গণতন্ত্র, সংবিধান ও দেশের সার্বভৌমত্ব মুখ থুবড়ে পড়েছে বিএনপি তা রক্ষা করেছে। সুতরাং দেশ রক্ষার স্বার্থে বিএনপিকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কঙবাজারের চকরিয়া শহীদ আব্দুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। নির্বাচনী এই শেষ জনসভায় আগামীর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ধানের শীষে ভোট চান চকরিয়াপেকুয়া আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে কঙবাজারসহ এতদাঞ্চলে বহুমাত্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। চকরিয়া থেকে সাতটি ইউনিয়নকে আলাদা করে মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠা করা হবে। মাতামুহুরী ও চকরিয়ায় একটি করে ক্রীড়া কমপ্লেঙ, চট্টগ্রামকঙবাজার মহাসড়ককে ছয় লেন, চকরিয়াপেকুয়াবাঁশখালীআনোয়ারা সড়ক চার লেন করা হবে। এছাড়াও চকরিয়া শহরে বাইপাস সড়ক ও দুটি ফ্লাইওভার করা হবে।

অতীতে মন্ত্রী থাকাকালে চকরিয়াপেকুয়ার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বদরখালী থেকে বমুবিলছড়ি, খুটাখালী থেকে রাজাখালী পর্যন্ত যত সেতু করেছি, তা গুনতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাতদিন সময় লাগবে। এবার নির্বাচিত হলে আরও অনেক সেতু, সড়ক করা হবে। আঞ্চলিক মহাসড়কগুলো মহাসড়কে পরিণত করা হবে। আমার জন্মই হয়েছে এদেশের উন্নয়ন ও সেবা করার জন্য। সুতরাং আমাকে উন্নয়ন শিখিয়ে লাভ নেই। দলের নেতাকর্মীদের অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১২ তারিখের পরদিন ১৩ তারিখ থেকে যারা অন্যায় করেছে, অপরাধ করেছে, মানুষকে হয়রানি করেছে তাদের বিচার শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান সাঈদ ইব্রাহীম আহমদ, কঙবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ চৌধুরী রাজু, জেলা ওলামাদলের সভাপতি আলী হাসান চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, বিএনপি নেতা সাজ্জাদুল কবির চৌধুরী প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপির মিছিলের জন্য আনা গ্যাসবেলুন বিস্ফোরণ, হাসপাতালে ২১
পরবর্তী নিবন্ধজামায়াতকে ভোট দিলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে : ফখরুল