কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনিত প্রার্থী ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে দুই আসন মিলে আরো তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর মধ্যে দুইজন কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলন মনোনিত প্রার্থী মো. ছরওয়ার কামাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে বাতিল হওয়া অন্যজন হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মাওলা।
গতকাল শুক্রবার বিকালে মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাইয়ের প্রথম দিনে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্রটি বাতিল ঘোষণা করেছেন। এছাড়া অন্যান্য কারণে অন্য তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এই বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান জানান, হামিদুর রহমান আযাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনাল–২ এ একটি আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা করা হলফনামায় এই সংক্রান্ত তথ্য তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু এই সংক্রান্ত রায়ের কপি বা কাগজপত্র তিনি জমা দেননি। বাছাইকালে জমা দিলেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা উল্লেখ ছিল না। তার নিয়োজিত আইনজীবীরা মৌখিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৭২ এর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্টের সাথে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আমার ক্ষমতাবলে ওই মামলা জটিলতা বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেয়ার এখতিয়ার নেই। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। তাই প্রার্থীর সেখানে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী আলমগীর ফরিদসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে হামিদুর রহমান আযাদ অনুপস্থিত ছিলেন। জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদের নিয়োগকৃত আইনজীবী আকতার উদ্দীন হেলালী বলেন, ২০১৩ সলের ৯ জুন একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র আদালত অবমাননায় অভিযুক্ত করে হামিদুর রহমান আযাদকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২। তিনি সেই সাজা পুরোপুরি ভোগ করেছেন। সাজাটি ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভিত্তিক। এটি এই আদালতের অধিভুক্ত কোনো অপরাধ হিসেবে পড়বে না। অপরাধের ধারায় পড়লেই নির্বাচনে প্রার্থীতা হতে বাধা ছিল। এই আইনজীবী আরো বলেন, সাজা ভোগ করার সাথে সাথে মামলাটির পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যেত। কিন্তু আমার মক্কেল হামিদুর রহমান আযাদকে দেয়া সেই সাজা অবৈধ ছিল। তাই ন্যায় বিচার পেতে উচ্চ আদালতে সেই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন তিনি। এরপর মামলাটির বাদিপক্ষ তিনি। পক্ষ অভিযুক্ত বা অপরাধী না। তাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন। তখন বাধা না হলে এখন কেন বাধা হবে; তা বোধগম্য নয় বলে জানান আইনজীবী মোহাম্মদ আকতার উদ্দীন হেলালী। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করব। আপিলে আশা করি খুব সহজে এই বাধা উৎরে হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় জামায়াতের এ নেতা তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলার তথ্য দেন। তার মধ্যে ৭০টিতে তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহার হয়েছে। আর দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে আদালত অবমাননার মামলাটিও রয়েছে।
বিডিনিউজ জানায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং বিচারাধীন বিষয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও দেশে গৃহযুদ্ধর হুমকি দেওয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগে ২০১৩ সালে হামিদুর রহমান আযাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিলে জামায়াতের এক সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেছিলেন, ‘স্কাইপে সংলাপের গোপন তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুহূর্তও চলতে পারে না।’
এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, ইসলামী আন্দোলনের জিয়াউল হক, খেলাফত মজলিশের ওবাদুল কাদের নদভী, গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল করিম।











