জাবেদ ও স্ত্রীসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ইউসিবি থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ মামলা

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নগরীর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। দুদকের দাখিলকৃত চার্জশিট গ্রহণ করে গতকাল চট্টগ্রামের মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন। দুদক পিপি মোকাররম হোসেন দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, চার্জশিটভুক্ত মোট আসামি ৩৬ জন। এরমধ্যে দু’জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। বাকীরা যেহেতু পলাতক সেহেতু তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করে। এরমধ্যে নগরীর ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় গত ৫ জানুয়ারি জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেনসাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, ইউসিবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী, ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বজল আহমেদ বাবুল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এমএ সবুর, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ইউনুছ আহমদ, হাজি আবু কালাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী, রোকসানা জামান চৌধুরী, বশির আহমেদ, আফরোজা জামান, সৈয়দ কামরুজ্জামান, মো. শাহ আলম, মো. জোনাইদ শফিক, অপরূপ চৌধুরী ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান, ইউসিবি ব্যাংকের পোর্ট শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ, শাখার সাবেক শাখা প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ চৌধুরী, সাবেক ক্রেডিট অফিসার জিয়াউল করিম খান, সাবেক এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন, আরামিট পিএলসির প্রটোকল অফিসার ও ভিশন ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, আরামিট পিএলসির কর্মী ও মডেল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম, আরামিট পিএলসির এজিএম ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের মালিক মো. আব্দুল আজিজ, আরামিটের এজিএম ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আরামিট পিএলসির এজিএম উৎপল পাল, ইউসিবিএল এর সাবেক পরিচালক বশির আহম্মদের কর্মচারী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, হুন্ডি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহিদ, তার ভাই মো. শহীদ, সহযোগী মো. সুমন, আরামিট পিএলসির ড্রাইভার মো. ইলিয়াস তালুকদার, তার প্রতিবেশী ওসমান তালুকদার, আরামিটের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী, মো. ইয়াছিনুর রহমান, কর্মচারী মো. ইউছুফ চৌধুরী ও মো. সাইফুল ইসলাম।

চার্জশিটে বলা হয়, জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামীয় একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয় এবং ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে নগরীর ইউসিবি পোর্ট শাখায় একটি হিসাব খোলা হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা ও হলুদ মটর ক্রয়ের কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হলে কোন রকম জামানত ছাড়াই উক্ত আবেদন মঞ্জুর হয় এবং একই বছরের ১২ মার্চ উক্ত ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আদালতসূত্র জানায়, গতবছরের ২৪ জুলাই দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মশিউর রহমান বাদী হয়ে জাবেদসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম১ এ মামলাটি দায়ের করেন। দুদক জানায়, ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তদন্তে ৩৬ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এরই প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমাদন সাপেক্ষে জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতে অনিয়ম লাখ টাকা জরিমানা
পরবর্তী নিবন্ধরেজিস্ট্রেশন শেষে জমির দলিল স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর