বাড়তি নম্বর দিয়ে পাশ করানো দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের ডিগ্রি পাস কোর্সে ফেল করা একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে গাজীপুর নগরের বোর্ডবাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এক পর্যায়ে উপাচার্যের গাড়ি অবরোধ করেন তারা। খবর বিডিনিউজের।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনোই সহানুভূতি দেখাতে পারে না। সামনের দিনে শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখার স্বার্থে অটোপাশ এবং গ্রেস নিরুৎসাহিত করা হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। তবে পরীক্ষার ফল চ্যালেঞ্জ করার সময় দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রেজাল্ট চ্যালেঞ্জ করার পরও তাদের ফেল দেখানো হয়। কেউ এক বিষয়ে, কেউবা দুই বিষয়ে ফেল করেছে। প্রথম ধাপে একবার তাদের বাড়তি নম্বর দিয়ে পাশের ব্যবস্থা করা হয়। তারপরও যাদের ফল অকৃতকার্য এসেছে, তাদের দ্বিতীয় ধাপে বাড়তি নম্বর দিয়ে পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে পাশ করানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বেগম রোকেয়া কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ভাবনা বলেন, ১০ মার্চ উপাচার্যের কাছে চার দফা দাবি জানান তারা। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এদিন ৭৬ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র দেখানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত দাবি পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী মো. রকিব হোসেন বলেন, আমাদের দাবি না মেনে ভিসি স্যার গাড়িযোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন।
এ সময় অন্যরা গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা আমাদের মারধর করে সরিয়ে দিলে ভিসি স্যার এলাকা ত্যাগ করেন। টঙ্গী সরকারি কলেজের বিএসএস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার্থী মো. জাভেদের অভিযোগে, “অনেক পরীক্ষক উত্তরপত্র দায়সারাভাবে মূল্যায়ন/পুনর্মূল্যায়ন করে থাকেন। আর এতে শিক্ষার্থীরা ফেল করে থাকেন। আমরা এসব শিক্ষকের অবহেলা থেকে মুক্তি চাই। ঘটনার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য আমানুল্লাহ বলেন, “শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবি এবং অন্যায় আবদারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনোই সহানুভূতি দেখাতে পারে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনও অটোপাসকে সমর্থন করে না।














