আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, গতকালকেও (শুক্রবার) আমরা দেখেছি ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা সেটার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য এ ধরনের হামলা আরো হতে পারে। ষড়যন্ত্র যাতে আরো বেশি দানা বেঁধে না ওঠে সেজন্য আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। তাই আমাদের সাবধানে থাকতে হবে এবং সতর্কভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর চর চাক্তাই নয়া মসজিদ সংলগ্ন আমীর ফোরকানিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯ নং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের গরীব অসহায় ও দুস্থদের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নবাব খানের সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈনুদ্দীন পারভেজের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু ও সাবেক কাউন্সিলর ইয়াছিন চৌধুরী আসু।
নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এরই মধ্যে ধানের শীষের একটা জোয়ার উঠেছে। এই জোয়ার ধরে রেখে মানুষের পাশে আপনারা কাজ করে যাবেন। কোনো ধরনের অন্যায় অত্যাচারের শিকার যেন মানুষকে হতে না হয়। যদি কারও ওপর অন্যায় অত্যাচার হয় তাহলে নেতাদের জানাবেন, প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন। কোনো অন্যায় অত্যাচারীকে দলে রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, অতিথি পাখিরা সু–সময়ে আসবে, আবার দুঃসময়ে উড়াল দেবে। কিন্তু ত্যাগী কর্মী, ও নেতারা দেশ ছেড়ে পালাবে না। কর্মীদেরও ছেড়ে যাবে না। বিএনপিতে যারা আছেন তারা নির্যাতন, অন্যায় অত্যাচার ও নিষ্পেষণের শিকার হয়েছেন। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ডা. শাহাদাত বলেন, এখানে একজন চরম অন্যায়কারী আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিল। সে তার মামা, ভাগিনা ও ভাইকেও ছাড়েনি। এখন সে আছে? নেই, পালিয়ে গেছে। এভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন কর্মীদেরকে রেখে পালিয়ে যায়। কিন্তু বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া দুঃসময়েও পালায়নি। এটা হচ্ছে বিএনপির মূল আদর্শ, আমরা কখনো পালিয়ে যাইনি। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে আমার কোনো কর্মী চরিত্র হারায়নি। অন্যায় অত্যাচার নিষ্পেষণ বুক বেঁধে রেখেও আওয়ামী লীগে যোগ দেয়নি। কিছু আওয়ামী লীগের লোকজন এখনো ঘোরাফেরা করছে, অতিথি পাখিরা টোপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশপ্রেম ও সততার ভিত্তিতে দল প্রতিষ্ঠা করেছেন। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
অটোরিকশা নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কিছু নেই : সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের অনেকে বলছে, সিটি কর্পোরেশন নাকি অটোরিকশার অনুমতি দেবে। কিন্তু অটোরিকশার অনুমতি দেয়া সিটি কর্পোরশনের কাজ না। অটোরিকশার অনুমতি দেবে বিআরটিএ এবং পরিচালনা করবে ট্রাফিক বিভাগ। এখানে সিটি কর্পোরেশনের কোনো এখতিয়ার নেই। বিআরটিএ এবং ট্রাফিক যখন অনুমতি দেবে তখন সিটি কর্পোরেশন না করবে না, কখনো না করেনিও।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের কাজ হচ্ছে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, নালা নর্দমা সংস্কার, জলাবদ্ধতামুক্ত রাখা, গ্রিন প্ল্যানটেশন ও রাস্তাঘাট উন্নয়ন করা। মেয়র বলেন, গতবারও অটোরিকশা চালানোর জন্য আমি নিজে পুলিশ কমিশনার ও বিআরটিএতে কল করেছি। তবে শর্ত ছিল অটোরিকশা অলিগলিতে চলবে এবং শিশুদের দিয়ে চালানো যাবে না। কিন্তু এখন উল্টো ওরা আমাকে প্রশ্ন করছে, আপনি তো আমাদের সুপারিশ করেছিলেন, তখন বলেছিলেন, এগুলো শুধু অলিগলিতে চলবে এবং ছোট বাচ্চারা চালাবে না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে এগুলো রাস্তাঘাটে চলে আসছে, দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং ছোট বচ্চারাও চালাচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই। এটা ট্রাফিক বিভাগ এবং বিআরটিএর বিষয়। আপনারা তাদের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে আমি আবারও আপনাদের জন্য সুপারিশ করব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা নাজমুল হক নাজু, রেজিয়া বেগম মুন্নী, নুরুল আলম কালু, ইয়াকুব খান, আবদুল মান্নান, জাকের হোসেন, তাহের জামাল, সালাউদ্দীন বাসু, আবদুল বারেক, ওমর ফারুক, নুরুল আলম নুরু, মো. শফি, মো. ইউনুস, বেলাল উদ্দিন, আবদুল কবির, আবদুল কাদের, মো. সুমন, মো. মানিক, হৃদয় হোসেন, মো. সোহাগ।