নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির কারণে পুরুষদের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ যথা সময়ে মাঠে না গড়ানোয় বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে নারী ক্রিকেটেও। তবে এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং নারী ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী মে মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘বিসিবি উইমেন্স কাপ’। উইমেন্স কাপ মূলত টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে আয়োজিত হবে। গত বছর যারা নারী ক্রিকেটের প্রথম বিভাগে খেলেছেন, এমন ১১২ জন ক্রিকেটার এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে জাতীয় দলের কোনো ক্রিকেটার এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন না। মোট আটটি দল এতে অংশ নেবে, যার প্রতিটিতে থাকবে ১৪ জন করে ক্রিকেটার। মজার ব্যাপার হলো, দলগুলোর নামকরণ করা হবে বিভিন্ন রঙের নামে। প্রথম বিভাগের অনেক ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক অত্যন্ত নগণ্য কেউ পান ৫ হাজার, আবার কেউ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই কঠিন সময়ে ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিসিবি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উইমেন্স কাপে অংশগ্রহণকারী ১১২ জন ক্রিকেটারের প্রত্যেককে বোর্ড থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বিসিবির এক কর্মকর্তা জানান, ক্রিকেটারদের ক্রিকেটে ফেরানোর পাশাপাশি তাদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করাই এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য। উইমেন্স কাপের পাশাপাশি নারী ক্রিকেটের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে হাই–পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। গত কয়েক মাস ধরে চলা এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে খুব শীঘ্রই।
আগামী মে মাস থেকে চার–পাঁচ মাসের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া শুরু হবে, যেখানে স্কিল ডেভলপমেন্ট ক্যাম্পসহ ট্রেনার ও ফিজিওর পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাবেন নারী ক্রিকেটাররা। বিসিবির এই দ্বিমুখী পরিকল্পনা নারী ক্রিকেটারদের মাঠের ব্যস্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কাঠামোকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দু–এক দিনের মধ্যেই টুর্নামেন্ট ও এইচপি ইউনিটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বিসিবি।












