বর্ষাকে সামনে রেখে নগরের কালীর ছড়া খাল খননে কর্মসূচি নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। গতকাল বুধবার দুপুরে লেকসিটি আবাসিক এলাকার কৈবল্যধামের পেছনে এ খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, প্রাকৃতিক খালগুলোই ছিল চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। সেগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে অল্প সময়ে জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কালির ছড়া খাল খনন তারই একটি অংশ। পর্যায়ক্রমে নগরের সব গুরুত্বপূর্ণ খাল পরিষ্কার ও খনন করা হবে।
কালির ছড়া খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মেয়র। একইসঙ্গে নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সিটি কর্পোরেশন খাল খনন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মেয়র বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় নগরের প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। তিনি বলেন. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রামবাংলার কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার সেই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলে এক সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচি পুনরায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
ডা. শাহাদাত বলেন, নগরের খালগুলো দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে খালগুলো দখলমুক্তকরণ ও নিয়মিত খনন; এই দুইটি কাজ একসঙ্গে চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখন জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুম এলেই ফরিদার পাড়া, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশন খাল পুনরুদ্ধার, নালা পরিষ্কার এবং পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ডা. শাহাদাত বলেন, সিডিএ নগরের ৩৬টি খালে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং অবশিষ্ট ২১টি খাল পরিষ্কার ও খননের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গ্রহণ করবে। তবে শুধু খাল খনন করলেই হবে না; খাল রক্ষা, দখলমুক্ত রাখা এবং বর্জ্যমুক্ত রাখতে নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খাল ও নালায় পলিথিন, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। এসব বর্জ্যই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। পলিথিনের কারণে অনেক স্থানে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।
মেয়র বলেন, খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে খাল ভরাট বা দখল করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন চৌধুরী ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ–প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মা, মশক ও ম্যালেরিয়া কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, শাহরিয়ার খালেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া, আবু তাহের ও মেয়রের জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ।












