বান্দরবানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার উন্নয়নে গড়ে তোলা ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ হোস্টেলে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। বিশুদ্ধ পানি, ছাত্রাবাসসহ বিভিন্ন সংকটে ধুকে ধুকে চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার উন্নয়নে ১৯৮০ সালের ২১ শে জানুয়ারি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে প্রায় সাড়ে ১২ একর জমিতে ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৯৮ জন। তারমধ্যে মেয়ে ১২৩ এবং ছেলে ১৭৫ জন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুমি ১৭ জন। অন্যরা ম্রো সমপ্রদায়ের। শিক্ষকের সংখ্যা ১৯ জন। শিক্ষক পদের সংখ্যা ২৩ জন। পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর ৬ জন শিক্ষক রয়েছে। তবে ম্রো জনগোষ্ঠীর কোনো শিক্ষক নেই। এ পর্যন্ত এইচএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৯১ জন। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩৮ জন। বাকিরা ঝড়ে পড়েছে। ২০২১ সাল থেকে সাধারণের পাশাপাশি ভোকেশনাল কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমও শুরু হয়। ২০২৫ সালে ভোকেশনালে ৩৭ জনের মধ্যে ২২ জন পাশ করে। আর সাধারণে ১৯ জনের মধ্যে ১১ জন পাশ করেছে। এ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ–৫ পেয়েছে দুজন ছাত্র। এরা হলো রাঙরি ম্রো এবং থংপং ম্রো জিপিএ–৫ পান। ২০২১ সালে ঐ বছরে ৪৭ জন পরীক্ষার্থীর শতভাগ পাশ করে। জেএসসিতে য়াংরুং ম্রো একজন জিপিএ–৫ পেয়েছে।
এদিকে ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় হোস্টেলে ৮০ জনের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিকের বেশি। ছেলেদের হোস্টেলটি খুবই জরাজীর্ণ। হোস্টেলের শিক্ষার্থী তুংপং ম্রো বলেন, তারবাড়ি ক্যমপ্রু পাড়া এলাকায়। ক্লাস নাইনে পড়ে। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। চিম্বুক বাগান পাড়ার বাসিন্দার ময়সাই ম্রো বলেন, তারা ৫ বোন ২ ভাই। বড়বোন এবং বড়ভাই ম্রো আবাসিক স্কুলে থেকেই এসএসসি পাশ করে। বর্তমানে সে হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করছে। এখানে শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের আবাসন সংকট, জরাজীর্ণ ছাত্রাবাস, সুপেয় পানির সংকট তীব্র রয়েছে। প্রযুক্তিগত আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সংকট।
টংকাবতী ইউনিয়নর চিলি পাড়ার বাসিন্দার ইয়ং রে ম্রো এবং জামসি ম্রো বলেন, আমাদের দুভাইবোন এখানে পড়ালেখা করে। হোস্টেলের ভবনটি ভাঙ্গা চূড়া হওয়ায় খুবই ভয় লাগে। ভূমিকম্প হলে ভবনটি কেঁপে ওঠে। সরকারের কাছে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় নতুন হোস্টেলের নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা লেখাপড়া করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। হোস্টেলের দায়িত্বশীল শিক্ষিকা সীমা বড়ুয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের টেন্ডারে বাচ্চাদের খাওয়া দাওয়া হয়। ৩ বেলা ভাত এবং বিকেলে নাস্তা দেয়া হয়। ছাত্রছাত্রী হোস্টেলে আবাসনের সংকট রয়েছে। ছাত্র হোস্টেলের অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং লেখাপড়ার উন্নয়নে হোস্টেল নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
নানা সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে ম্রো আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিন উদ্দিন বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নটরডেম কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে বর্তমানে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা খাইনাই ম্রো বর্তমানে উন্নয়ন বোর্ডের গবেষণা কর্মকর্তা। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভালো করে এখানের শিক্ষার্থীরা।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসন সংকট, সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট খুবই তীব্র এখানে। অনেকদূর থেকে সংযোগ লাইনের মাধ্যমে খাবার পানি আনতে হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদি প্রকল মাধ্যমে স্থায়ীভাবে খাবার পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।












