নগরীর হোটেল পেনিনসুলায় গতকাল ২৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী ‘সেপ ভারতীয় শিক্ষা মেলা-২০২২’। গতকাল সকালে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন। এ সময় চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেপ ইভেন্ট এন্ড মিডিয়া প্রা. লি. এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় থাপা এবং ভারতীয় দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পরপরই ভারতে শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভিড় চোখে পড়েছে মেলায়। আয়োজকরা জানান, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারের মেলায়ও আসাম ডাউন ইউনিভার্সিটি, অ্যাডামাস, জে আই এস গ্রুপ কলকাতা, ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ব্যাঙ্গালুরু, আই টি এম ইউনিভার্সিটি, সারদা ইউনিভার্সিটি-দিল্লি, এপিজি সিমলা ইউনিভার্সিটি-সিমলা, গীতা গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) স্টল সহকারে মেলায় অংশ নিয়েছে। এ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত প্রতিনিধি ও বাংলাদেশের এজেন্টরা প্রায় ৩০টি স্টলে ভারতের স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাগ্রহণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করছেন। দুইদিনব্যাপী এ মেলা আজ (শনিবার) বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত। গতকাল মেলায় গিয়ে দেখা যায়, প্রথম দিনই জমে উঠেছে এ শিক্ষা মেলা। ভারতে শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ভিড় করেছেন মেলায়। বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে তাঁরা ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। রয়েছে স্পট এডমিশনের সুযোগও। স্পট এডমিশনের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ও দিচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ভারতে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা সেই সুযোগটিও কাজে লাগাচ্ছেন। অনেককেই দেখা গেলো স্পট এডমিশন নিতে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে কলকাতার জেআইএস গ্রুপের। স্টলে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের কাছে নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে ব্রিফ করছিলেন জেআইএস গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (বিজনেস ডেভলপমেন্ট) বিদ্যুৎ মজুমদার। গত ২০ বছরে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে বলে জানান জেআইএস গ্রুপের এ কর্মকর্তা।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ৮ম বারের মতো এ মেলার আয়োজন করছে সেপ ইভেন্ট এন্ড মিডিয়া প্রা. লি.। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী তথা ছাত্র সমাজের দোরগোড়ায় পছন্দসই ও কাঙ্ক্ষিত উচ্চ শিক্ষার সহজ প্রবেশাধিকার সুবিধা দেওয়াই সেপ ভারতীয় শিক্ষা মেলার মূল লক্ষ্য বলে জানালেন মেলা আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেপ ইভেন্ট এন্ড মিডিয়া প্রা. লি. এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জয় থাপা। তিনি বলেন, ‘ভারতে শুধুমাত্র গুণগত সর্বোচ্চ শিক্ষাদানই নয়- যে কোনো দেশের চেয়ে অল্পখরচে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে দেয়। বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ দেশের শিক্ষার ব্যয়ভার থেকে অল্প খরচে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন। তদুপরি ভারতে একদম সেশনজট নেই।’ তাই দেশের বাইরে শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চাইলে ভারতকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে পারে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও পছন্দের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেলায় ভারতের সবচেয়ে নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ ও স্টল নিশ্চিত করা হয় জানিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানায়, মেলায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন ভর্তি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্যগুলো সরাসরি জেনে নিতে পারে, সেটিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ অফার রয়েছে। তাছাড়া উল্লেখযোগ্য ছাড়ে মেলায় স্পট এডমিশনের সুযোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য লটারির মাধ্যমে ল্যাপটপ জেতার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান আয়োজকরা।













