বাংলাদেশে বহুদিন ধরে গণতান্ত্রিক অর্ডার না থাকার কারণে সব জায়গায় অসমতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অসমতাকে সমতায় ফিরিয়ে আনতে হলে জবাবদিহিমূলক সরকারকে আনতে হবে। জবাবদিহিমূলক সরকারের মাধ্যমে সমতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সকলের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা যাবে এবং সম্মানবোধ ফিরিয়ে আনা যাবে।
তিনি গতকাল বিকেলে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের বেড়িবাধ সংলগ্ন এলাকায় ‘ইয়ুথ টক’ নামক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন চট্টগ্রাম–১১ আসনের প্রার্থী আমীর খসরু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক উপ কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। তিনিও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেশের ডাক্তারদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী উদ্যোগ নেয়া হবে? এক তরুণের এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কার প্রটেকশন আছে আমি জানি না। শুধু ডাক্তার নয়, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে কার প্রটেকশন আছে সেটা আমার জানা নেই। আসলে যেখানে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার থাকবে না, যে সংসদ, যে সরকার, ও যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে না সেখানে কারো নিরাপত্তা থাকবে না। এখানেই নির্বাচিত সংসদ, সরকার ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, জবাবদিহিতার মধ্যে প্রত্যেককে আসতে হবে। শুধু রাজনীতিবিদ না, যে যেখানে কাজ করছে সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ফার্স্ট ক্লাস সিটিজেন হওয়ার কারো দরকার নেই, আমরা সবাই ইকুয়েল সিটিজেন। ডাক্তারদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হতে হবে, রাজনীতিবিদদের প্রথম শ্রেণির নাগরিক হতে হবে–এসব ভুল ধারণা। আমরা সবাই সমান। একজন রিকশাচালক ভাই তার সাথে আমার সম্মানের ব্যবধান থাকার কোনো কারণ নেই। কারণ আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সুতরাং সম্মানের বেলায় সকলের সম্মান সমন্বিত রাখতে হবে। পরে সাংবাদিকদের আমীর খসরু বলেন, তরুণদের নিয়ে ভবিষ্যৎ দেশ গড়বো, তরুণদের নিয়ে পলিসি করবো, কিন্তু তরুণদের মনের কথা শুনবো না এটা তো হবে না। আমাদেরকে তরুণদের মনের কথা জানতে হবে, তাদের চাওয়া–পাওয়া শুনতে হবে। তারা কী ভাবছে? তাদের চাহিদা কী? আমরা কোন কোন জায়গায় ভালো কিছু করতে পারবো এগুলো জানা দরকার। এখান থেকে আমিও কিছু জ্ঞান নিয়ে গেলাম। দেশ গড়তে হলে সবাইকে নিয়ে গড়তে হবে, সবার কথা শুনতে হবে, বুঝতে হবে।
খসরু বলেন, আমরা অন্য ফরমেটেও তরুণদের কথা শুনব। নাগরিকদের মনের কথা শুনব। নাগরিকদের মনের কথা না শুনলে দেশ চালাবেন কী করে? তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এটা অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের একটা অংশ। অর্থনীতি খেলাধুলা সংস্কৃতি সবগুলোকে গণতন্ত্রায়ন করতে হবে।
তানভীর আহমেদ ও সুমনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুর আলম, সদস্য সরফরাজ কাদের রাসেল, বিএনপি নেতা মো. আশরাফ, ডাক্তার ফারহানাজ মাবুদ সিলভীসহ তরুণ পেশাজীবীরা।
অনুষ্ঠান শেষে আমীর খসরু নিউমুরিং, পোর্ট কলোনি, ইস্ট কলোনি এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশ যখনই সংকটে পড়েছে, দেশের যে কোনো ক্রান্তি লগ্নে বিএনপি সব সময় সংকট উত্তোরণের কাজ করেছে ও জনগণের পাশে থেকেছে।
এদিন আমীর খসরু ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডের বেগম জান স্কুল মাঠে ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, মহানগর বিএনপির সদস্য হানিফ সওদাগর, বিএনপি নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার, মো. সেলিম, কামাল উদ্দিন, হাসান মুরাদ, হোসেন, শাহাবুদ্দিন সাবু ও মো. আজম।












