এক মাস ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) বিভিন্ন ওয়ার্ড অফিসে জন্ম নিবন্ধন সনদসহ অন্যান্য সনদ নিতে আসা লোকজনের হোল্ডিং ট্যাক্স হালনাগাদ পরিশোধ আছে কীনা তার রশিদ যাচাই করা হতো। পরিশোধ করা না থাকলে প্রয়োজনীয় সনদ পেতেন না সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রত্যাশী। এতে ভোগান্তি হতো তাদের। বিষয়টি জানতে পেরে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নাগরিক ভোগান্তি কমানোর নির্দেশনা দেন। এরপ্রেক্ষিতে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে আসা লোকজনের হোল্ডিং ট্যাক্স হাল নাগাদ রশিদ যাচাই করা বন্ধ হয়েছে। এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে নাগরিকদের সেবা প্রদানের বিভিন্ন প্রকার সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে হালনাগাদ পৌরকর পরিশোধের রশিদ যাচাই করার নির্দেশনা দিয়ে গত ১৪ আগস্ট অফিস আদেশ জারি করে রাজস্ব বিভাগ। এতে বলা হয়, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৪১টি ওয়ার্ডের নাগরিকদের সেবা প্রদানের বিভিন্ন প্রকার সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে হোল্ডিংয়ের বিপরীতে হালনাগাদ পৌরকর পরিশোধের রশিদ যাচাইপূর্বক সনদ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়। এটা সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়।
এর পেক্ষিতে রশিদ যাচাই শুরু হলে জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে আসা শহরের অনেক ভাড়াটিয়াও ভোগান্তিতে পড়েন। এটা জানতে পেরে রশিদ যাচাই–এর শর্ত তুলে ফেলার নির্দেশনা দেন মেয়র। এরপর পূর্বের অফিস আদেশ বাতিল করা হয়। চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের স্বাক্ষরিত এর অফিস আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৪১ টি ওয়ার্ডের নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে হোল্ডিং এর বিপরীতে পৌরকর পরিশোধের রশিদ যাচাই পূর্বক সনদ প্রদানের বিষয়টি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।
এ বিষয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ দেখার বিষয়টি আমি জানতাম না। জানার পর সেটা বাতিল করতে নির্দেশ দিই। এটার কারণে অনেক ভাড়াটিয়ারও সমস্যা হচ্ছিল। মেয়র বলেন, নগরবাসীর উচিত নিয়মিত গৃহকর পরিশোধ করা। আশা করি নগরবাসী এগিয়ে আসবেন। এরপরও যারা কর পরিশোধ করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডের শীর্ষ কর খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।












