জনশক্তি রপ্তানিতে ধস

করোনাকালীন ১৪ মাসে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশ গেছেন মাত্র সাড়ে ৯ হাজার

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ১ জুন, ২০২১ at ১২:১৮ অপরাহ্ণ

করোনাকালে ভয়াবহ ধস নেমেছে জনশক্তি রপ্তানিতে। গত ১৪ মাসে চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের দেশগুলোতে পাড়ি জমিয়েছেন মাত্র সাড়ে ৯ হাজার ব্যক্তি। এর মধ্যে ৯ হাজারই গিয়েছেন সৌদি আরব এবং ওমানে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের শ্রম বাজার প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক। মোট জনশক্তির রপ্তানির ৯০ ভাগই হয়ে থাকে সৌদি আরব, কাতার, ওমান এবং আরব আমিরাতে।
এর বাইরে চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভাগ্য বদলের উদ্দেশ্যে অনেকে পাড়ি দিচ্ছেন। তবে করোনার ছোবলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব পড়েছে জনশক্তি রপ্তানিতে। বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সেই সময় ৬৬ দিন লকডাউন শেষে পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক নেওয়া শুরু হয়। তবে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ফের বন্ধ হয়ে যায় বিমান চলাচল। চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিস সূত্র জানায়, গত বছরের মার্চে লকডাউন শুরুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে গেছেন ৪ হাজার ২১৮ জন, ওমানে ৪ হাজার ৮৯৬ জন, কাতারে ১৯৫ জন এবং আরব আমিরাতে গেছেন মাত্র ৩৫ জন। সব মিলিয়ে এই চার দেশেই গেছেন ৯ হাজার ৩৪৪ জন। বাকি ৫৬ জন গেছেন ইয়েমেন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, আলবেনিয়া, আর্মেনিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, জর্দান, বাহরাইন, ইথিওপিয়া, মোজাম্বিক, মরিশাস, সার্বিয়া এবং উজবেখিস্তানে। চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খাতে প্রচুর দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশ ম্যানপাওয়ার রিক্রুটিং বন্ধ করে দেয়। তবে করোনার আগে জনশক্তি রপ্তানির গতি-প্রকৃতি বেশ ভালোর দিকেই এগোচ্ছিল। নগরীর রিক্রুটিং এজেন্সি কানন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. গিয়াস উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে আমাদের অবস্থা খারাপ। এখন সৌদি আরব ছাড়া সব দেশের রিক্রুটিং বন্ধ আছে। করোনার থাবায় আমরা একেবারে পথে বসে যাওয়ার অবস্থা। রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসাইন আজাদীকে বলেন, করোনার ক্ষতির বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এখন একমাত্র সৌদি আরব ছাড়া আর কোথাও ম্যানপাওয়ার রিক্রুট হচ্ছে না। তাও খরচ অতিরিক্ত। টিকেটের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এছাড়া সৌদি আরব পৌঁছে নিজের খরচে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। সেখানে খরচ লাগছে ৬০ হাজার টাকা মত। সব মিলিয়ে আগের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ টাকারও বেশি।
তিনি আরো বলেন, বাধ্য হয়ে অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ আগে আমাদের মাধ্যমে সৌদি আরব যেতে খরচ হত সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মত। এখন খরচ হচ্ছে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিসের উপ-পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, করোনার আগে অনেক অপ্রচলিত দেশেও বেকার যুবকরা যেতে আগ্রহ প্রকাশ করছিল। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপের দেশ রোমানিয়া, আর্মেনিয়া, আলবেনিয়া, পোল্যান্ড, মাল্টা, সার্র্বিয়া এবং ক্রোয়েশিয়াতেও অনেকে পাড়ি দিয়েছে। কিন্তু মার্চ থেকে থেকে আজ (গতকাল) পর্যন্ত বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন মাত্র সাড়ে ৯ হাজার। তার আগের বছর একই সময় অর্থাৎ ২০১৯ সালের মার্চ থেকে ২০২০ সালের ৩১ মে পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পাড়ি দেন ৩৫ হাজার ব্যক্তি। সে হিসেবে জনশক্তি রপ্তানি চার ভাগের তিন ভাগ কমে গেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএলাকায় সমাজ সেবক পেশায় ডাকাত সর্দার
পরবর্তী নিবন্ধআপন মহিমায় কবে ফিরবে মাতামুহুরী