নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যারা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বেআইনি কর্মকাণ্ড করে তাদেরকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের দায়িত্ব মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রার্থী হিসেবে প্রশাসনকে যেটুকু সহযোগিতা করার সেটুকু আমরা করতে চাই। তিনি দাবি করেন, যারা নির্বাচন বন্ধ করতে চায় তারা ঢাকায় ওসমান শরীফ হাদি হত্যা এবং চট্টগ্রাম–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর প্রচারণায় গুলিবর্ষণ করেছে। গতকাল রোববার দুপুরে নগরের জামালখানে একটি রেস্টুরেন্টে চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম–৯ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চিফ কোঅর্ডিনেটর ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামশুল আলম।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম–৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ সাহেবের গণসংযোগে গুলিবর্ষণ হয়েছে। একজন মারা গেছে। তারপর ঢাকায় ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেছেন। আমরা এ সমস্ত ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে নিতে পারি না। আমরা মনে করি, এটা নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করার জন্য কোনো না কোনো মহল যারা নির্বাচন করতে চায় না, যারা নির্বাচনকে বন্ধ করতে চায় তাদের কাজ।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য যারা স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে, কোনোভাবেই ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া–আসায় কোনো বাধার সৃষ্টি হবে না। তারা এটা সিরিয়াসলি মনিটর করে এ ব্যাপারে আমাদেরকে নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। তাদের সেই আশ্বাসে আমরা আস্থা রাখতে চাই। আশা করি কোনো অপশক্তি পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারবে না। কারণ জনগণ সচেতন আছে।
এবার উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আবু সুফিয়ান বলেন, জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আবার ঘরে ফিরতে পারবে এবং জনগণের প্রদত্ত ভোটের ফলাফল প্রকাশিত হবে। তিনি বলেন, একসময় নির্বাচনটা ছিল একটা উৎসব। ঈদের মতো আনন্দ নিয়ে সবাই সপরিবারে ভোটকেন্দ্রে যেত। কিন্তু বিগত দিনে জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বিগত সরকার সেই ভোটের দিনকে আতঙ্কের দিনে পরিণত করেছিল গুলি বোমা ককটেল এগুলো ফাটিয়ে। সেই কালো অধ্যায় থেকে বেরিয়ে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চাই। মানুষের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রবণতা আমরা দেখতে পাচ্ছি। দেখবেন অন্যান্য ভোটের চেয়ে আরো বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে।
সুফিয়ান বলেন, জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা, একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন, সেদিকে আমরা যাচ্ছি। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করব। বিএনপি জুলাই আন্দোলন এবং এর পূর্বেও গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার অর্জনের জন্য নিরলস সংগ্রাম করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। আমাদের নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসিত জীবনযাপন করেছেন। উনি যেদিন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলেন সেদিন সমাবেশে তিনি বলেছেন, নারী–পুরুষ–শিশু, জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়বেন। এজন্য তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন।
তিনি বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় গেছে তারা জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে নিজের পকেট ভারী করেছে। দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে হবে। অতীতে যারা ভোট ছাড়া ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের সম্পদ বেড়েছে। আজ ওয়াদা দিয়ে যেতে চাই, যদি সংসদে যাই আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করব। প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি যদি জনগণ ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয় তাহলে যে নিরাপদ, বৈষম্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আমরা চাই সেই বাংলাদেশ পাব।
আবু সুফিয়ান বলেন, ফ্যাসিস্ট বিদায় হয়েছে। নতুন স্বপ্ন নিয়ে মানুষ জেগে উঠেছে যে, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা দেশ পরিচালিত হবে। মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করেছি। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করবে। যদি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারি, যদি আমার দল সরকার গঠন করতে পারে, এটাকে কোনোভাবে ক্ষমতা হিসেবে নিতে চাই না, পবিত্র আমানত হিসেবে নিতে চাই। মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা যেন সমর্থ হই। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে রাখব। আমার দলের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখানে আমার দলের অনেক যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তারপরও দল আমাকে দিয়েছে। আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমাদের সমস্ত নেতৃবৃন্দ নিজেরা প্রার্থী হলে যেভাবে কষ্ট করতেন সেভাবে উনারা ধানের শীষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত ও এনসিপির কেউ যদি ভোট চেয়ে থাকেন তাহলে তারা অপরাধ করেছেন। আমরা আচরণবিধি মেনে ২২ তারিখ থেকে প্রচারণায় যাব। তবে হ্যাঁ, মানুষের সাথে আমাদের সম্পর্কটা একদম গভীরে। নির্বাচনে প্রচারণায় এখনো না গেলেও আমরা উনাদের চেয়ে এগিয়ে আছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, শিহাব উদ্দিন মোবিন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মো. মহসিন, খোরশেদুল আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, ইসমাঈল বালি ও মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি।












