নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় এলাকাভিত্তিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, জনগণকে প্রকৃত সেবা দেওয়ার জন্য–ইনফ্যাক্ট লোকাল কাউন্সিলররা যদি না থাকে, তাহলে এটা দেওয়া আসলে খুব কঠিন। আমি ১২ থেকে ১৪ মাস এ চেয়ারে আছি, আমি বুঝতে পারছি জনগণকে প্রকৃত সেবা দেওয়ার জন্য এলাকাভিত্তিক নির্বাচিত কাউন্সিলররা যদি না থাকে, তাহলে জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে, এনআইডি থেকে শুরু করে, ফ্যামিলি কার্ড যেগুলো আমরা দিচ্ছি সেগুলো, ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার, পর্যাপ্ত লাইট, ল্যাম্পপোস্ট, রাস্তা সংস্কার–এরকম প্রতিটি সার্ভিস পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে, মশক নিধন থেকে শুরু করে, প্রতিটি সার্ভিস দেখাটা খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে টাইগারপাসসস্থ নগর ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আমি একা মানুষ, আমি বুঝতে পারছি যে কী পরিমাণ কঠিন সময় আমরা পার করছি। পুরো চট্টগ্রাম শহর আমাকে ঘুরতে হচ্ছে, সকাল থেকে রাত অব্দি আমাকে কাজ করতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য একটা কঠিন জব। আমি একটা দল করি, দলের একটা সাপোর্ট আমি পাচ্ছি, কিছু পেশাজীবী আমার পাশে আছেন, যার কারণে আমি অন্যান্য সিটির চেয়ে ভালো সাপোর্টটা এখানে দিতে পারছি। কিন্তু পুরোপুরি সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য নির্বাচিত কাউন্সিলর অবশ্যই লাগবে।
ডা. শাহাদাত বলেন, আমি যদি চাই, আদালতের রায় অনুসারে আরও চার বছর থাকতে পারব ইনশল্লাহ। তাহলে চার বছর আমার মেয়াদ আছে। তিনি বলেন, ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমার যে মেয়াদটা আছে, আমি চাই যে সারা বাংলাদেশেই যেহেতু প্রশাসক আছে প্রতিটি সিটিতে, প্রতিটি শহরেই নির্বাচনটা হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, যেহেতু আমি একটি বৈধ নির্বাচন চাচ্ছি, সেহেতু আমি আর কন্টিনিউ করতে চাচ্ছি না। তবে আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সেকশন–সিঙ যাতে ফলো করা হয়। স্থানীয় সরকার আইনের সেকশন–সিঙে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো একজন বৈধ মেয়র, এটা প্রশাসকের ক্ষেত্রে নয়, একজন মেয়রের ক্ষেত্রে, তিনি পরবর্তী নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কাজেই আমি মনে করি যে, একটা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হোক। সেই নির্বাচনে আমি যখন প্রার্থিতা ঘোষণা করব, তখন আমি পদত্যাগ করে প্রচার শুরু করব।
ডা. শাহাদাত বলেন, আমার প্রায় ৩৭–৩৮ বছরের রাজনৈতিক জীবন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমাকে কী পরিমাণ লোক পছন্দ করে সেটা আমি জানি না। আমি ২০২১ সালে যে নির্বাচনটা করেছি, হাত–পা বেঁধে আমাকে নির্বাচন করতে হয়েছে। আমি আদালতে একটা মামলা করেছিলাম, যেহেতু ইভিএমে রেজাল্ট দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা না দিয়ে তারা হাতে লিখে দিয়েছে, সেজন্য মামলা করেছিলাম এবং জয়ী হয়েছি। আমি মাত্র ৫৫ হাজারের মতো ভোট পেয়েছিলাম, এটা কিন্তু আমার আসল ভোট না। তিনি বলেন, এখন প্রায় ২২ লাখ ভোটার আছে। একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে এবং সেই নির্বাচনটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তো, আমি আশা করব যে, আমাদের যে নতুন সরকার, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে হচ্ছে, সেই সরকারের অধীনে যে নির্বাচনটা হয়েছে তার চেয়ে আরও বেশি ক্রেডিবল একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হোক। সমস্ত দল সেখানে অংশগ্রহণ করুক, তাদের মতামত ব্যক্ত করুক, জনগণ নির্দ্বিধায় ভোট দিতে আসুক এবং আমার পক্ষ থেকে নির্বাচনকে আরও বেশি গণমুখী, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য যা যা করা দরকার, আমি সবই করব।
তিনি আরও বলেন, জনগণ আমাকে কতটুকু পছন্দ করে আমি সেটা দেখতে চাচ্ছি। আমি যদি এক লাখ, দুই লাখ, তিন লাখ ভোট পাই কিংবা ৫০ হাজার ভোট পাই, তাহলে আমি বুঝতে পারব যে, এত লোক আমাকে পছন্দ করে। তাহলে আমি নিজের অবস্থানটা বুঝতে পারব, নিজে আরও শক্তি পাব।












