সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের ডিএডি মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জঙ্গল সলিমপুরে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। লোকজনও তেমন একটা দেখা যায়নি। তবে রোকন বাহিনীর প্রতিপক্ষ গ্রুপ ইয়াসিন গ্রুপের কয়েকশ নারী–পুরুষ সমাবেশ করে মোতালেব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে। তারা মাইক লাগিয়ে সমাবেশ করে। বিএনপির যে অফিসটি উদ্বোধন করতে গিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত সেটি গতকাল তালাবদ্ধ দেখা গেছে। ভেতরে চেয়ার–টেবিলগুলোতে ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট।
৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের তৈরি করা অফিসটির দখল নিয়ে রোকন গ্রুপ ও ইয়াসিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওখানে সন্ত্রাসী ধরার অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে র্যাব সদস্যরা হামলার শিকার হন।
সলিমপুর বায়েজিদ সংযোগ সড়কের এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির গেটের উত্তর পাশের আরেফিননগর গেট ধরে আরআরসিসি ঢালাই করা সড়ক ধরে সিএনজি টেঙি চলাচল করছিল। এরা জঙ্গল সলিমপুরে আসা–যাওয়া করে। জঙ্গল সলিমপুর ১ নম্বর সাংগঠনিক সমাজে গিয়ে দেখা যায় থমথমে অবস্থা। বিএনপির যে অফিসে সংঘর্ষের পর র্যাব সদস্যদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল সেটির পাশের ৭–৮টি দোকান বন্ধ দেখা গেছে। মাস্ক পরিহিত কিছু লোকজনকে এদিক–ওদিক হাঁটাহাঁটি এবং নজরদারি করতে দেখা যায়। এরা রোকন বাহিনীর ক্যাডার উল্লেখ করে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারা এলাকা পাহারা দিচ্ছে। প্রয়োজনে সংকেত চলে যাবে নির্দিষ্ট জায়গায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, র্যাব সদস্যরা সাদা পোশাকে ছিলেন। পরে তারা যখন র্যাবের জ্যাকেট বের করে গায়ে দেন তখন হামলাকারীরা সটকে পড়ে। সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যদের প্রতিপক্ষের লোক মনে করে হামলাকারীরা হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১ নং সমাজের উক্ত বাসিন্দা নিজের পরিচয় গোপন রেখে বলেন, বিএনপির অফিস উদ্বোধনের সময় আলীনগর ও জঙ্গল সলিমপুরে কয়েকশ নারী–পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় দুটি মাইক্রোবাসে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহিনুল ইসলাম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে বিএনপির অফিস উদ্বোধনের সময় ওখানে সব লোক ছিল ইয়াছিনের। ওই সময় যদি রোকনের কোনো লোক যায় তাহলে একটা সমস্যা হবে, এটা স্বাভাবিক। বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যা মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি তাদের পরিচয় জানাননি।
গতকাল ১ নং সমাজে বিএনপি অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে রোকন উদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ও ১ নং সমাজের বাসিন্দারা।
এদিকে বিডিনিউজ জানায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল সকালে সাংবাদিকদের বলেন, সুর্নিদিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা সোমবার বিকালে সেখানে অভিযানে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং ছিনিয়ে নেয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এদিকে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্তদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।












