রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলার আসামি মো. আইয়ুবকে (৪৫) রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭। গতকাল রোববার ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুর্গম দুরছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইয়ুব এই হত্যা মামলার ৯ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। র্যাব বলছে, মাসুদকে হত্যার পেছনে কারণ হলো চেয়ারম্যান পদে তার প্রার্থিতা আটকে দেওয়া।
স্থানীয় ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার আবদুল মোনাফের ছেলে মো. আইয়ুব দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব–৭ এর একটি দল গতকাল ভোর ৬টার দিকে অভিযান চালিয়ে তার ভগ্নিপতি শাহ আলমের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযান শেষে র্যাব সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতিসহ পাঁচটি মামলা আছে বলে র্যাবের ভাষ্য।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জুন রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে ১৬ জুন রাঙ্গুনিয়া থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো সাত–আটজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অস্ত্রধারীদের নেপথ্য পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো. আইয়ুবের নাম উঠে আসে। এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন মজুমদার জানান, র্যাবের একটি বিশেষ দল বাঘাইছড়ির দুর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইয়ুবকে আটক করেছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আসামি আইয়ুব যুবদল নেতা মাকসুদুল হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি। তাকে রাঙামাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিডিনিউজ জানায়, যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার পেছনের কারণ হলো চেয়ারম্যান পদে তার প্রার্থিতা আটকে দেওয়া। র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুবদল নেতা মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মধ্য বেতাগী এলাকার বাসিন্দা। ভিকটিম বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৩ জুন দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাসুদ। এ সময় একটি সিএনজি টেঙিতে করে ৫ জন অস্ত্রধারী সেখানে আসে। তাদের দুজনের হাতে শর্টগান এবং তিনজনের হাতে পিস্তল ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মাসুদকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।










