বিএসসি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেছেন। শিক্ষার্থীদের অনুস্থিতিতে গতকাল ফাঁকা ছিল চুয়েটের ক্লাসরুম ও ল্যাবগুলো। ক্লাস বর্জনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্র ঘোষিত তিন দফা দাবি আদায়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। চুয়েটের ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তরের উপ–পরিচালক মো. মুক্তার হোসাইন শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক দাবি করে বলেন, এই আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করি। শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায়ও আমরা প্রতিবাদ জানাই। কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা : তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কার্যালয় অভিমুখে মিছিল শেষে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বিএসসি প্রকৌশলীদের তিনটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো– ৩৩ শতাংশ পদোন্নতি কোটা বাতিল, টেকনিক্যাল গ্রেড উচ্চতর যোগ্য প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্তকরণ ও বিএসসি ছাড়া কেউ ইঞ্জিনিয়ার পদবি ব্যবহার করতে পারবে না।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে ক্যাম্পাস শাটডাউন অব্যাহত থাকবে। এ সময় বিভাগীয় পর্যায়ে প্রকৌশলী সমাবেশ এবং সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শেষে জাতীয় সমাবেশ করারও ঘোষণা দেয়া হয়।
এর আগে, বুধবার পূর্বঘোষিত লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়লে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে সাংবাদিকসহ বহু শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।