চুল মানবদেহের সৌন্দর্য বর্ধনকারী একটি অংশবিশেষ। অনেককাল হতে চুল সম্পর্কিত বহু কথা বিভিন্ন সময়ে শোনা যেতো। চুল নিয়ে যারা মাথা ঘামান তাঁরা চুলকে ধরে রাখার জন্যে অনেক উপায় অবলম্বন করে থাকেন। তন্মধ্যে স্নানের পূর্বে বা পরে রোজ তেল দেয়া, ক্রিম মাখা, স্যাম্পু করা, সাবান মাজা, মাথা ম্যাসেজ, হালকাভাবে মাথা আঁচড়ানো, চুল ছোট করে কাটা ইত্যাদি। কেউ কেউ মনে করে থাকেন; যেটা যাবার সেটার ব্যাপারে চিন্তা করে লাভ নেই, চলেই যাবে। উপরন্তু চিন্তার কারণে দুশ্চিন্তায় আরো ক্ষতিগ্রস্ত হন। চেহারার মাধূর্য ধরে রাখতে চুল উঠে যাবার পর কেউ পরচুলা ব্যবহার করেন। কেউ গ্রাফটিং করে চুল গজান কেউ বিভিন্ন বিজ্ঞাপন নির্ভর হয়ে মাথার দুপাশের চুল দ্বারা পালমারাইজ সমেত চুল রাখেন। এর পরেও আসল চুলের তৃপ্তি পান না। চুল বিশেষত তিন প্রকারঃ খাড়া চুল, প্লেন বা সিল্কি চুল এবং কোঁকড়া চুল। তিনটির মধ্যে কোঁকড়া চুলধারী পুরুষের কদর সমাজে অধিক। এ কোঁকড়া চুলওয়ালাদের চুলই সর্বাগ্রে কমে যায় বা তাড়াতাড়ি উঠে যায়। তাঁরা চুল না উঠার জন্যে অনেক রকমের অত্যন্ত দামে হরেক প্রকারের তেল ব্যবহার করেও কোন সুরাহার কুল কিনারা পান নি। ক্যানসার বা এইডস‘র চিকিৎসা করে বাঁচিয়ে রাখার মত অনেকটা। চুল নিয়ে আমাদের দেশে কিংবা বিশ্বের কোথাও গবেষণা হয়েছে কি না অধীনের জানা নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন বয়সের ভিন্ন পেশার ৬৭ জন পুরুষ হতে ৩০–৫০ বৎসর বয়সের লোক যাঁদের মাথার চুল দ্রুত উঠে যাচ্ছে বা পাতলা হয়ে গেছে এবং ৫১–১০৫ বৎসর বয়সের লোক যাঁদের মাথায় এখনো বয়সের তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমানের চুল রয়েছে তাঁদের বর্ণনার একটি সত্য তথ্য সংগ্রহ করে সর্বজনে জ্ঞাত করার নিমিত্তে পেশ করলাম। আশা করি এ প্রাথমিক তথ্যকে কোন সংস্থা বা বিশেষজ্ঞ সামান্য হলেও কাজে লাগাতে পারবেন।
মাথার চুল উঠে বা কমে গেছে তাঁদের থেকে গৃহীত তথ্য মতে সম্ভাব্য যে কারণসমূহ রয়েছে (৩০–৫০ বৎসর বয়সী)-সরাসরি ফ্যানের বাতাস, টেনশন, বায়ুচড়া, রাতজাগা, চুলে রং দেয়া, হেলমেট ব্যবহার করা, অনিয়মিত খাবার, সঠিক পরিচর্যার অভাব, অগোছালো জীবন যাপন, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ব্যবহার, কৃয়ার পানি ব্যবহার, অপরিমিত খাবার, খুশকী, ব্লাড প্রেসার, গ্যাস্ট্রিক, মনরোগ, টাইফয়েড, রক্ত আমাশয়, সিলিড্রিন ম্যালেরিয়া, উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক গ্রহণ, মাথা ব্যথা, অত্যধিক যৌন উত্তেজনা, অতিরিক্ত মেজাজ, অতিরিক্ত স্যাম্পু ব্যবহার, প্রত্যহ সাবান ব্যবহার, ঘন ঘন মাথায় ব্রাশ করা, বংশগত, মাথার তালু ঘামা, কলম্বো লারিকেল তৈল ব্যবহার করায়, কোন তৈল ব্যবহার না করায়, শাক শবজী না খাওয়ায়, চুলে ইলেকট্রিক হিট দেয়ায়, অধিক সময়কাল শীতাতপে থাকা।
বয়সের তুলনায় যাঁদের পর্যাপ্ত পরিমাণে মাথায় চুল রয়েছে তাঁদের দেয়া তথ্যানুযায়ী চুল থাকার সম্ভাব্য কারণসমূহ (৫১–১০৫ বৎসর বয়সী)- বংশগত, খেলাধুলা/আড্ডা, ফুর্তিতে থাকা, স্নানের পূর্বে সরিষার তৈল ব্যবহার করা, স্নানের পর সরিষার তৈল ব্যবহার করা, তিলের তৈল ব্যবহার করা, ছোটবেলা হতে নারিকেল তৈল ব্যবহার করা, কোন তৈল ব্যবহার না করা, নিরামিশ গ্রহণ, সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা, উদ্বেগহীন ভাবে সবকিছু গ্রহণ, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা, নিয়মিত ঘুম, পরিমিত খাবার, স্নানের পর আলতু করে টাওয়েল ব্যবহার, স্নানের আধা ঘন্টা পর চিরুনী ব্যবহার, নাস্তার পূর্বে প্রত্যহ ভোরে স্নান, প্রত্যহ খাঁটি গরুর দুধ পান, অত্যধিক যৌন ক্ষুধা নিবারণ, চুল ছোট করে রাখা, মেজাজ ঠাণ্ডা রাখা, দৈনিক এক বেলা ভাত, ছোটবেলা থেকে পান্থা ভাত খাওয়া, সব ধরনের খাদ্য গ্রহণ, উন্নতমানের খাদ্য গ্রহণ, মৌসুমী ফলমূল খাওয়া, বিটামিন সি জাতীয় খাদ্য নিয়মিত খাওয়া, যোগ ব্যায়াম করা, মাজিক হওয়াকে, ন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ন্যায়ের স্বপক্ষে বলা, যে কোন কাজে স্রষ্টা ভীতি ও ভরসা, সাবান ব্যবহার না করা, স্নানের পূর্বে চুল ম্যাসেজ।
লেখক: কবি, ছড়াকার ও প্রাবন্ধিক।












