চীনের বেলুন আমেরিকার আকাশে গেল কিভাবে?

| রবিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ at ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ

আমেরিকার আকাশে চীনের একটি রহস্যজনক বেলুন দেখার পর সেদেশে সফর বাতিল করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। চীন স্বীকার করেছে যে, সেটি তাদের একটি বেসামরিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষক বেলুন, যা তার নির্ধারিত পথ থেকে সরে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে যাওয়ায় তারা দুঃখপ্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, এটি চীনা একটি নজরদারী বেলুন। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের আরেকদফা অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বেলুনটি কি পথ হারাতে পারে?

মন্টানার বিলিংস শহরের আকাশে দেখা যাওয়ার আগে এটি আলাস্কার অ্যালেউটিয়ান দ্বীপপুঞ্জ এবং কানাডার মধ্য দিয়ে উড়ে এসেছে। এ ধরনের বেলুন সাধারণ হিলিয়াম গ্যাসে ভরা বেলুন হয়ে থাকে। এটি আকাশের অনেক উঁচুতে উড়তে সক্ষম হয়। বেলুনের নীচের অংশে একটি সৌরশক্তির প্যানেল থাকে, যা থেকে বেলুনটি পরিচালনার শক্তি যোগানো হয়। এর নীচেই ক্যামেরা, রাডার, সেন্সর এবং যোগাযোগের সরঞ্জামগুলো থাকে। চীন দাবি করেছে যে, ওয়েস্টারলিস বাতাসে বেলুনটিকে তার নির্দিষ্ট পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে। বিবিসির একজন কর্মকর্তা বলছেন, চীন এবং উত্তর আমেরিকার মাঝে নর্থ প্যাসিফিকে যে বাতাস বয়ে থাকে, তাকে বলা হয় ওয়েস্টারলিস। এটা সাধারণত পশ্চিমে তৈরি হয়ে পূর্ব দিকে বয়ে যায়। গত কয়েকদিন ধরে সেখানে বাতাসের যে গতিবেগ রয়েছে, তাতে বেলুনটিকে আলাস্কার উপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে কানাডা হয়ে মন্টানায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক গবেষক বলছেন, চীন যতটা দাবি করছে, বেলুনটি হয়তো তার চেয়েও বেশি অত্যাধুনিক। এমন কিছু আপনি বেলুন দিয়ে করতে পারবেন, যা স্যাটেলাইট দিয়ে পারবেন না।

স্যাটেলাইট থাকতে বেলুন কেন?

বেলুন হচ্ছে গোয়েন্দা নজরদারীর সবচেয়ে পুরনো পদ্ধতিগুলোর একটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে অগ্নিসংযোগকারী বোমা হামলা করতে জাপানিরা বেলুন ব্যবহার করেছিল। স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নও ব্যাপকভাবে নজরদারী করতে বেলুন ব্যবহার করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে জানা যাচ্ছে যে, অনেক উঁচুতে উড়ে নজরদারী করতে পারে, পেন্টাগনের নেটওয়ার্কে এরকম বেলুন যুক্ত করার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

আধুনিক যে বেলুনগুলো রয়েছে, সেগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৪ থেকে ৩৭ কিলোমিটার ( ৮০ হাজার ফিট১ লাখ ২০ হাজার ফিট) উঁচুতে উড়তে পারে। বেলুন কম ব্যয়বহুল এবং খুব সহজেই মোতায়েন করা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেইজিং হয়তো ওয়াশিংটনকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে, আমরা যেমন সম্পর্ক ভালো করতে চাই, তেমনি যেকোনো রকমেই হোক, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যও প্রস্তুত আছি। মনে হতে পারে যে, এই বেলুনটা শনাক্ত হওয়াটাই চীনের উদ্দেশ্য ছিল। তারা হয়তো দেখাতে চায় যে, তাদের এরকম স্পর্শকাতর প্রযুক্তি আছে, যা বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি না করেও যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুক্তরাষ্ট্র আরো অস্ত্র দিলে পুরো ইউক্রেন জ্বলবে
পরবর্তী নিবন্ধপ্রেমিক পালিয়েছে খুঁজে দিন, শুনে পুলিশ বলল ওকে যেতে দিন