চীনের বিরুদ্ধে গোপন পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

| শনিবার , ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

চীন ২০২০ সালে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। জেনেভায় বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে ওয়াশিংটন এই অভিযোগ তুলে চীন এবং রাশিয়াকে নিয়ে একটি নতুন ও বিস্তৃত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি করার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। তার পরপরই বিশ্বমঞ্চে চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগ দুই দেশের মধ্যকার গুরুতর উত্তেজনাকেই সামনে এনেছে। খবর বিডিনিউজের।

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস ডিন্যানো সম্মেলনে বলেন, আমি দেখাতে পারি যে, চীন পারমাণবিক বিস্ফোরক পরীক্ষা চালিয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত আছে। তারা পরিকল্পিতভাবে শত শত টন বিস্ফোরণ ক্ষমতা পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের ২২ জুনে চীন এমন একটি পরীক্ষা চালায়। বেইজিং এই কার্যক্রম লুকানোর জন্য ‘ডিকাপলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যে পদ্ধতিতে সিসমিক মনিটরিং বা ভূকম্পন মাপক যন্ত্রে এর প্রভাব ধরা না পড়ে।

এর আগে গত বছরের শেষের দিকে চীনের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ বাড়ানোর অভিযোগ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে তখন এত সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

গতকাল জেনেভা সম্মেলনে ডিন্যানো বলেন, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা গোপন রাখার চেষ্টা করেছে, কারণ তারা জানত, এসব পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত অঙ্গীকারের লঙ্ঘন।

চীনের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত শেন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনো কথা বলেননি। তবে তিনি বলেন, চীন সবসময়ই পারমাণবিক বিষয়ে বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আচরণ করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র চীনের পারমাণবিক হুমকি নিয়ে অনবরতই বাড়িয়ে বলে আসছে। চীন এইসব মিথ্যা কথার ঘোর বিরোধিতা করছে।

জেনেভার নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের কূটনীতিকরা বলছেন, চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগটি নতুন এবং উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের মতো চীন ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষানিষিদ্ধকরণ চুক্তি (সিটিবিটি) সই করেছে। তবে চুক্তিটি অনুমোদন করেনি। এই চুক্তির আওতায় পারমাণবিক বিস্ফোরক পরীক্ষা নিষিদ্ধ। রাশিয়া এই চুক্তি সই এবং অনুমোদন করেছে। তবে ২০২৩ সালে এই নিষেধাজ্ঞা তুলেও নিয়েছে।

ওদিক রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ সদ্য শেষ হওয়ায় গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ লাগামহীনভাবে তাদের স্ট্র্যাটেজিক পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার বিস্তৃত করার সুযোগ পেয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই শূন্যতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাবনিকাশের ঝুঁকি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র চায় নিউ স্টার্ট চুক্তির জায়গায় চীনকে নিয়ে নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি হোক। কারণ, চীন দ্রুতই তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অনলাইনে এক পোস্টে লিখেছেন, রাশিয়া এবং চীনের এটা আশা করা উচিত না যে, তারা যখন তাদের বাধ্যবাধকতা থেকে দূরে সরে গিয়ে তাদের পামাণবিক অস্ত্র মজুত বাড়াচ্ছে তখন যুক্তরাষ্ট্র চুপচাপ বসে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের পারমাণবিক অস্ত্র আরো আধুনিক করে গড়ে তুলবে।

ওদিকে জেনেভা সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস ডিন্যানো বলেন, আজ যুক্তরাষ্ট্র একাধিক পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কাছ থেকে হুমকির মুখে আছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই ২০২৬ সালে এসে কেবল একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করে সামনে এগিয়ে যাওয়া অনুচিত।

চীনের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে যে ধারণা প্রকাশ করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি করে ডিন্যানো বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে যাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে নিয়ে নতুন যে পারমাণবিক চুক্তি চাইছে সে বিষয়ে চীনা প্রতিনিধি শেন জিয়ান আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, তাদের দেশ এখনকার পরিস্থিতিতে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় বসবে না। তিনি বলেন, আজকের এই নতুন যুগে যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধ যুগের ভাবনা বাদ দেবে বলে আমরা আশা করি এবং অভিন্ন ও সহযোগিতামূলক নিরাপত্তাকে স্বাগত জানাই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশেষ মুহূর্তের প্রচারণায় নির্বাচনী উত্তাপ বান্দরবানে
পরবর্তী নিবন্ধ১২ তারিখ জনগণ ধানের শীষের বিপ্লব ঘটাবে : ইসরাফিল খসরু