চিন্তায় ও কর্মে আত্মশুদ্ধি রোজার শিক্ষা

আ ব ম খোরশিদ আলম খান | মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

মহিমান্বিত রমজান মাস সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে আমরা। আজ ২৭ রমজান পার হচ্ছে। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে এবং নানামুখী ইবাদত বন্দেগির দ্বারা রোজার নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির সৌভাগ্য অর্জনে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে। আল্লাহর দরবারে সকরুণ আর্তি ও ফরিয়াদ জানিয়ে আমাদেরকে পাপের বোঝা হালকা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাকওয়া বা আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল পয়গাম। প্রিয় নবী (.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা অবস্থায়ও মিথ্যা বলা ও তদনুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি তার এরূপ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই (বোখারি শরিফ)।’

রোজার মূল লক্ষ্য হচ্ছে তাকওয়া বা পরহেজগারিতার গুণ অর্জন করা। হৃদয়ের পবিত্রতা, শালীনতা, নৈতিকতা, আত্মার সজীবতা এবং চিন্তাধারার বিশুদ্ধতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করাই রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য। কোরআন মজিদে ‘লায়াল্লাকুম তাত্তাকুন’ অর্থাৎ যাতে তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীরুতা অর্জন করতে পারো বলে রোজার মূল উদ্দেশ্যের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। রোজার মাধ্যমে প্রবৃত্তির তাড়না নিয়ন্ত্রণে বিশেষ শক্তি ও প্রেরণা অর্জিত হয়। প্রকৃত অর্থে এটাই তাকওয়া বা আল্লাহভীতির মূল ভিত্তি। রোজা রাখা সত্ত্বেও তাকওয়ার গুণ রপ্ত করতে না পারলে এ রোজা হবে অন্তঃসারশূন্য, যা আল্লাহ পাকের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

রোজার মাধ্যমে প্রবৃত্তির তাড়নাকে অবদমিত করে তাকওয়ার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হলে প্রিয় নবীর (.) অনুসৃত ও প্রদর্শিত নিয়মে রোজা রাখতে হবে। সেই সঙ্গে নিজের চোখ, কান, জবান, পেট ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে হারাম খাওয়া, হারাম দেখা, হারাম শোনা, হারাম বলা ইত্যাদি মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। তাকওয়া শুধু গুনাহের কার্যাবলি থেকে বেঁচে থাকার নাম নয়, বরং গুনাহের যাবতীয় মন্দ কাজ বর্জন করে নেক আমলগুলো কার্যকর করাই হলো তাকওয়া।

কাজেই রোজার মাধ্যমে মানুষ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য এই ষড়রিপুকে দমন করতে সক্ষম হয় এবং রোজাদার একজন পরিপূর্ণ মুত্তাকি ও আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দা হিসেবে পরিগণিত হয়। রোজার মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে যে আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার জাগরণ ঘটে তা সারা বছর যেন অব্যাহত রাখা যায়এ অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। রোজা হচ্ছে তাকওয়া বা সাবধানী জীবনযাপনের বড় উপলক্ষ। রোজার আত্মশুদ্ধির শিক্ষায় পুরো বছর তাকওয়ার গুণ রপ্ত করতে হবে। চিন্তায়, কর্মে আত্মশুদ্ধি বাস্তবে রপ্ত করাই হচ্ছে রোজার শিক্ষা ও দর্শন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত
পরবর্তী নিবন্ধযত শক্তিশালীই হোক খাল দখলদারকে ছাড় নয়