চিনির বাজার নিম্নমুখী

শুল্ক কমার জের

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৩ অক্টোবর, ২০২১ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

আমদানি শুল্ক কমানোর জেরে দীর্ঘদিন উত্তাপ ছড়ানোর পর অবশেষে নিম্নমুখী চিনির বাজার। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কমেছে মণপ্রতি ১৫০ টাকা। অর্থাৎ পাইকারি পর্যায়ে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৩ টাকায়। যদিও খুচরা বাজারে দাম কমার কোনো প্রভাব পড়েনি। খুচরাতে এখনো প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দরবৃদ্ধির প্রভাবে কয়েক মাস যাবৎ চিনির বাজার অস্থির। তবে সম্প্রতি সরকার আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমানোর কারণে বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে ভোক্তাদের দাবি, চিনি নিয়ে অতীতেও ব্যবসায়ীরা কারসাজি করেছে। শুধু শুল্ক কমালে হবে না পাশাপাশি সরকারকে মিলগেটে চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয়া উচিত।
খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পাইকারীতে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭৫০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে সেই চিনি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৯০০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের কয়েকজন চিনির আড়তদার জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আবার আইনগতভাবেও স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। চিনি কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের একজন চিনি ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী গ্রুপ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে এটি যেমন ঠিক, আবার চিনির বাজারে সরকারের তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই এটিও ঠিক। তবে সর্বশেষ বাজারে নিয়ন্ত্রণ আনতে শুল্ক কমিয়েছে সরকার। এর কিছুটা প্রভাব হয়তো পড়েছে। তবে ভবিষ্যতে এটি যে আবারও উর্ধ্বমুখী হবে না, তা বলা মুশকিল। সরকারের উচিত রাষ্ট্রায়ত্ব চিনিকলগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলা। চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার বৃদ্ধির কারণে চিনির বাজার বাড়তি। চিনির বাজারে সিন্ডিকেট কারসাজি বলে কিছু নেই। আন্তর্জাতিক বাজার কমে গেলে দাম এমনিতে কমে যাবে। যেমন বর্তমানে সরকার সরকার শুল্ক কমিয়েছে তাই চিনির দাম কমতির দিকে আছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন দৈনিক আজাদীকে বলেন, চিনির বাজার নিয়ে কারসাজির নতুন কিছু নয়। তবে প্রশাসনের যেভাবে নজরদারি হওয়ার হওয়ার তো সেভাবে হচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশাসনকে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই মাঠে নামা উচিত। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সরকারি চিনিকলগুলোর বিপণন অব্যবস্থাপনার কারণে বেসরকারি চিনির আমদানিকারকরা কারসাজি করার সুযোগ পাচ্ছে। তাই সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর চিনির আমদানির শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নির্দেশনাটি আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে বলা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাদ্রাসার নাম পরিবর্তন নিয়ে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বৃদ্ধের
পরবর্তী নিবন্ধপীরগঞ্জে মাঝিপাড়ায় সহিংসতার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার