চার দিন পর লিফটের গর্তে মিলল নারীর লাশ

সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে এসে নিখোঁজ

কক্সবাজার প্রতিনিধি | রবিবার , ৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

অসুস্থ শিশু সন্তানকে নিয়ে কঙবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসে নিখোঁজ হন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়ার গৃহবধূ কোহিনুর আক্তার (৩১)। ৪ দিন পর হাসপাতালের লিফটের গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয় ওই গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ। মরদেহটি বিকৃত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

গত বুধবার মেয়েকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পর ওষুধ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন কোহিনুর। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েও তাঁর সন্ধান পাননি।

গতকাল শনিবার দুপুরে হাসপাতালের লিফট থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করে লিফটের নিচের গর্তে গৃহবধূর মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করেন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, কোহিনুর আক্তার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি কাতারপ্রবাসী। ৩ মার্চ সকালে কোহিনুর আক্তার তাঁর পাঁচ বছর বয়সী অসুস্থ মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। মরিয়মকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডের ২ নম্বর ইউনিটে তাকে ভর্তি করা হয়। পরদিন ৪ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের জন্য ওষুধ কিনতে নিচে নেমে আর ফিরে আসেননি ওই গৃহবধূ। কোহিনুরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর শ্বশুর আলী আকবর কঙবাজার সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

তবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মং টিং নিও বলেন, ‘লিফটের নিচ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় তল্লাশির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে লিফটের তলায় এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তারা এসে স্বজনদের উপস্থিতিতে লাশটি উদ্ধার করে। কীভাবে ওই নারী লিফটের তলায় পড়ে গেলেন, কারও জানা নেই।

এদিকে হাসপাতালের ব্যস্ততম একটি লিফটের গর্তে চারদিন মরদেহ পড়ে থাকার ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এতে কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি বা অন্য কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন সাধারণ লোকজন।

কঙবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দীন বলেন, ‘লিফট ত্রুটিপূর্ণ ছিল কি না অথবা অন্য কোনো কারণে ওই নারী নিচে পড়ে গেলেন কি না, তার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহেশখালীতে টমটম চাপায় শিশু নিহত
পরবর্তী নিবন্ধসাতকানিয়ার চূড়ামনিতে পাহাড় কেটে ইট তৈরি