চান্দগাঁওয়ে সিগারেট কারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নেই পরিবেশ ছাড়পত্র

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১২ নভেম্বর, ২০২০ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ

পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করে এবং অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে কারখানায় সিগারেট উৎপাদনের অপরাধে চান্দগাঁওয়ে ইন্টারন্যাশনাল টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার নগরীর চান্দগাঁও শিল্প এলাকায় কারখানাটিতে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া সিগারেট উৎপাদন কারখানা পরিচালনার দায়ে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল টোবাকোকে ৭০ লাখ টাকা পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করেছিল অধিদপ্তর। একই আদেশে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করে পরিবেশ ছাড়পত্র না নেয়া পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। ওই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বন ও জলবায়ূ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে আপিল আবেদন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে শুনানির জন্য একাধিকবার সময় নির্ধারণ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কেউ শুনানিতে হাজির হননি। এরপর চলতি বছরের ২৪ মার্চ সচিব আপিল আবেদনটি খারিজ করে দেন।
এরপরও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া সিগারেট উৎপাদন অব্যাহত রাখায় গত ১ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি তলব করে নোটিশ পাঠায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়। ৬ জুলাই তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়। একই আদেশে আবারও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় অধিদপ্তর। তারপরও কারখানাটি চালু রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে কারখানাটি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। এসময় র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি পিডিবি, কেজিডিসিএল ও ওয়াসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক নূরুল্লাহ নূরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘দুইদফা ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছিল। জরিমানা পরিশোধ না করায় বার বার লিখিত নোটিশ দেয়া হয়েছিল। মৌখিকভাবে তাদের পরিবেশ ছাড়পত্র নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কিছুই তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই তাদের উৎপাদন অব্যাহত রাখে। যে কারণে বুধবার আমরা এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে কারখানাটি সিলগালা করে দিয়েছি। কারখানার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাস্তায় দোকান ফুটপাতে পণ্য
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে অস্ত্রসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার