ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম আরো কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিন চাক্তাই–খাতুনগঞ্জে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে। বিশেষ করে দেশি পেঁয়াজ আসছে বেশি। একইসাথে আসছে ভারতীয় পেঁয়াজ। ফলে গত দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের বাজার নিম্নমুখী রয়েছে। এদিকে ভোক্তারা বলছেন, পাইকারিতে দাম কমলেও খুচরা পর্যায়ে সেটির প্রভাব খুব একটা পড়ে না। এখনো পাইকারির সাথে খুচরার পার্থক্য কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা পর্যন্ত।
চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। জানা গেছে, বর্তমানে দেশে তাহেরপুরী, বারি–১ (তাহেরপুরী), বারি–২ (রবি মৌসুম), বারি–৩ (খরিপ মৌসুম), স্থানীয় জাত ও ফরিদপুরী পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। ফলে বছরজুড়ে কোনো না কোনো জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। এর মধ্যে ১৮ লাখ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা হয়। আমদানি করা হয় বাকি চার লাখ টন। মূলত এই আমদানিকৃত চার লাখ টন পেঁয়াজ বাজারের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
পেঁয়াজের আড়তদাররা বলছেন, পেঁয়াজের বাজার চাহিদা ও যোগানের ওপর নির্ভরশীল। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের প্রায় আড়তদার কমিশনের ভিত্তিতে পেঁয়াজ বিক্রি করেন। অর্থাৎ পেঁয়াজ আমদানিকারক যে দাম নির্ধারণ করে দেন, সেই দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেন তারা। এর বিনিময়ে কেজিপ্রতি তারা নির্ধারিত একটি কমিশন পেয়ে থাকেন। তাই আড়তদারদের পক্ষে দাম ওঠানামা করার কোনো সুযোগ নেই। আড়তদারদের পক্ষে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের দেশে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রশাসনের লোকজন আড়তে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আতঙ্ক তৈরি হয়। অথচ আড়তদাররা পেঁয়াজ আমদানি করেন না। চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভারতীয় পেঁয়াজের পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম মছে। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তাই পেঁয়াজের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। বরং সামনের দিনগুলোতে পেঁয়াজের দাম আরো কমতে পারে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। দামও কমছে। এখন কৃষকের ঘরে নতুন পেঁয়াজ উঠেছে। দেশি পেঁয়াজের ফলনও ভালো হয়েছে।












