চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) এর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাটহাজারী থেকে বাইকের তেল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় মাসুম বিল্লাহ’র হাতে, পায়ে ও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। চোখের উপরে ক্ষুরের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাসুম বিল্লাহ লিখেন, গত ৪ মার্চ ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুরুতর আহত করে চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমঝোতা না করে শিক্ষার্থীদের উপরে সমঝোতার দায়িত্ব দেওয়া হয়। যার ফল আজকে সমঝোতাকারী হিসেবে হামলার সম্মুখীন হতে হয়। ব্লেড এবং ক্ষুর দিয়ে শেষ প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করে। এ বিষয়ে চাকসুর নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সোহান বলেন, আমরা একসাথে চাকসুতে ছিলাম। সেখান থেকে মাসুম বাইকে তেল নেওয়ার জন্য হাটহাজারী গিয়েছিল। ওরা (হামলাকারীরা) সম্ভবত ওখান থেকেই অনুসরণ করেছে। পরে রাস্তা আটকিয়ে ওকে অনেক মারধর করে। ওদের সাথে ক্ষুর ছিল। হাতে পায়ে মাথার উপরে অনেক আঘাত করেছে। এরপর চোখের উপরে ক্ষুরের আঘাতে কেটে গেছে। তার সাথে তার ভাগিনা ছিল তাকেও মারধর করেছে। এখন চবি মেডিকেল থেকে চমেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, যারা হামলা করেছে তাদের মধ্যে দুইজন কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে বাইক দিয়ে ঘুরতে এসে এক শিক্ষার্থীকে আহত করে। ঐ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের হয়ে সমঝোতার জন্য মাসুম কাজ করেছিল। ওখান থেকেই মাসুমকে টার্গেট করেছে মনে হচ্ছে।
জানা যায়, গত ৪ মার্চ মো. আরিফুল ইসলাম নামের এক বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজকে এঙিডেন্ট করে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের হয়ে সমঝোতা করেছিলেন চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। এ ঘটনায় রাজের চিকিৎসা বাবদ ২০,০০০ টাকা প্রদান করে এবং পরবর্তীতে মেডিকেল রিপোর্টের আলোকে কোন সমস্যা প্রমাণিত হলে সম্পূর্ণ ব্যয় বীনা শর্তে গ্রহণ করার শর্তে এবং যতদিন অদ্ভূত রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ না হয় ততদিন পর্যন্ত বাইকটি নিরাপত্তা দপ্তরের অধীনে থাকার শর্তে মুচলেকা দিয়েছিল আরিফের পিতা।
জানতে চাইলে চবি মেডিকেলের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, কয়েকজন মিলে ভুক্তভোগীকে মেডিকেলে নিয়ে আসে। চোখের উপরে ক্ষুর বা ছুরি এ জাতীয় কিছু দিয়ে কাটার দাগ ছিল। তার মাথায় প্রচন্ড আঘাত করা হয়েছে। শরীরে বিভিন্ন জায়গায় কিল ঘুসি দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদারকির জন্য একজনকে মেডিকেলে পাঠিয়েছি। থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে।











