জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম –১৬ (বাঁশখালী) আসনে ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের সমর্থনে গতকাল রোববার এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিকাল থেকে শুরু হওয়া ওই জনসভা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি হারুন বিন ইজহার। প্রধান বক্তা ছিলেন বাঁশখালী আসনে ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের এসিসটেন্ট সেক্রেটারি এডভোকেট মো. আবু নাছেরের সঞ্চালনায় আল্লামা ইসহাক, মাওলানা শাহ আবদুর রহমান, মাওলানা মীম ছিদ্দিক ফারুকী, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হক, দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মাহাবুবুর রহমান হানিফ, শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, চট্টগ্রাম জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক জাফর সাদেকসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্ণেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আমি বাঁশখালীতে ৯১ এর ঘূর্ণিঝড় এর পর থেকে বিগত দিনে অনেক মিটিং করেছি, কিন্তু আজকের মত এত বড় মিটিং করিনি। তিনি বলেন, বিগত দিনে সারাদেশে চাঁদাবাজরা রাজত্ব করেছে, ব্যাংকের টাকা লুট করেছে, তারা মন্ত্রী–এমপি হয়েছে। তাদের এসব অপকর্মের কারণে আমি বিএনপি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি উল্লেখ করে বলেন, যারা চাঁদাবাজি করে, ব্যাংক লুট করে ও বিদেশীদের দালালি করে তাদের ভোট দেবেন না। আগামীতে আর কোনো দুর্নীতিবাজ যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে তার জন্য তিনি সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। দেশে শান্তি, সবার সমান অধিকার, ধনী গরীব সবার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলামকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি ১১দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দেশকে ঢেলে সাজানো হবে, সবার চাকুরি নিশ্চিত করা, শিল্প কারখানা স্থাপন, মায়ের জাতির সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিতসহ সবার উপরে তাদের স্থান দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজরা দেশ না চালাক এটি যদি চান তাহলে জহিরুল ইসলামকে বিজয়ী করতে হবে।
সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া আসনে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘অনরা কনদিন চিন্তা গইজ্জন না, যেখানে জামায়াত ইসলাম, সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশে সেরা বাঁশখালীর মানুষ। এখানে অনেক জ্ঞানী গুণী ও রাজনৈতিক নেতাদের জন্ম। এ বাঁশখালীকে সম্মান জানিয়ে সাতকানিয়ার মানুষ বাঁশখালীর দিকে মাথা রেখে ঘুমায়। ৫৪ বছর পর ২৪ জুলাই হলো জামায়াতের কেরামতি। যেদিন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছে, সেদিন থেকে আওয়ামীলগিের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। ৫ আগস্ট তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জনসভায় বাঁশখালী আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম আধুনিক পর্যটন সমৃদ্ধ বাঁশখালী গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়াসহ দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি বাঁশখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেডিয়াম, বাস টার্মিনাল, সমুদ্র সৈকত, ইকোপার্কের উন্নয়নে বৃহৎ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।












