চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার বিকালে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আল্লাহতালা যদি আমাদেরকে এই দেশের সেবকের দায়িত্ব দেন, এক ইঞ্চি মাটির ওপর কেউ আর চাঁদাবাজির হাত বাড়ানোর সাহস করতে পারবে না। দেশে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। ক্ষমতায় গেলে দেশের এক ইঞ্চি জমিতেও বেইনসাফি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির পথ বন্ধ করতে পারলে পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব। খবর বিডিনিউজের।
নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত না করে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনো অফিস–আদালত বা কার্যালয়ে কারো ঘুষ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং ঘুষ খাওয়ার সাহসও হবে না। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবে প্রতিটি নাগরিক। বর্তমানে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য যে বেতন–ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা দেওয়া হয়, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনসাফভিত্তিক নয়। সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই এটা পর্যাপ্ত নয়। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, যারা জনগণের হক আত্মসাৎ করেছে, তারা যদি স্বেচ্ছায় ফেরত দেয় তাহলে অবশ্যই তারা অভিনন্দিত হবে। কিন্তু যদি ফেরত না দেয়, রাষ্ট্র ইনশাআল্লাহ ওদের মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে অর্থ বের করে নিয়ে আসবে। উদ্ধার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত করা হবে এবং সেই অর্থ দিয়েই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হবে।
বঞ্চিত এলাকায় সর্বপ্রথম উন্নয়নের কাজ শুরু হবে বলেও বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হব কিনা আল্লাহ ভালো জানেন। কে হবেন, কে হবেন না– এটা আল্লাহর ফয়সালা। তবে দায়িত্ব পেলে ইনসাফের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যদি এমন কিছু আমার দায়িত্বে এসে যায়, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চিতেও আমি বে–ইনসাফি করতে পারব না। প্রতি ইঞ্চি মাটি তখন আমার কাছে তার পাওনা বুঝে নেবে।
শফিকুর রহমান বলেন, এই সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন। আমরা তারই উত্তরসূরী। বাংলাদেশ গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াত ইসলামী। তবে আমরা ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পরই বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নেইনি। আমরা মামলা বাণিজ্য করেনি। কিন্তু অনেকে মামলা বাণিজ্য করেছে।












