চাকুরি স্থায়ী করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) বিভিন্ন বিভাগের অস্থায়ী কর্মচারীরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনের সামনে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। পরে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে কর্মরত কর্মচারীদের চাকরি পর্যায়ক্রমে স্থায়ী করার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে ডোর টু ডোর প্রকল্পের শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার ঘোষণা দিলে শান্ত হন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভরত শ্রমিকরা জানান, আন্দোলন করলে গত ২ ফেব্রুয়ারি চসিকের ২০৩ জন অস্থায়ী চালককে স্থায়ী করা হয়। অথচ চসিকের জনবল কাঠামো অনুযায়ী গাড়িচালকের শূন্যপদ আছে ২৫টি। এর বাইরে চসিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ১২ আগস্ট আউটসোর্সিংভুক্ত ১০৭ জন চালককে রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অর্থবিভাগে চিঠি দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। যদিও সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ওই ১০৭ গাড়িচালকের পদের বিপরীতেও স্থায়ী করার সুযোগ নেই। এরপরও শূন্যপদের অতিরিক্ত স্থায়ী করায় তারাও (বিক্ষোভকারীরা) স্থায়ী করার দাবিতে আন্দোলন করছেন।
এদিকে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে মেয়র তার দপ্তরে কর্মচারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে ডেকে নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। সেখানে নিয়ম মতে স্থায়ী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এরপর বিক্ষোভকারীদের সামনে এসে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও মানবিক প্রশাসন গড়ে তুলতে কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি কর্পোরেশন নাগরিক সেবাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে কর্মীদের কল্যাণে বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, অস্থায়ী যে কর্মচারীদের স্থায়ী করার জন্য জনবল কাঠামোতে পদ আছে এবং মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র আছে সেসব পদে আমরা পর্যায়ক্রমে স্থায়ী করে দিচ্ছিও। এর বাইরে যারা অস্থায়ী আছেন তাদের স্থায়ীকরণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পদে কর্মরত অস্থায়ী কর্মচারীদেরও স্থায়ী করে দেয়া হবে।
মেয়র বলেন, অস্থায়ী কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের শ্রম, নিষ্ঠা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ধাপে ধাপে তাদের স্থায়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অস্থায়ীভাবে কর্মরত কয়েকশ শিক্ষক, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের স্থায়ী করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্মচারীদের মধ্যে কাজের প্রতি আরও উৎসাহ, দায়বদ্ধতা এবং মনোবল বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করি।
ডোর টু ডোর শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রায় দুই হাজার শ্রমিক ডোর টু ডোর প্রকল্পের আওতায় কাজ করছেন। তাদের নিয়োগ পত্র না থাকায় তাদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এজন্য ডোর টু ডোর প্রকল্পের আওতায় যে সমস্ত কর্মচারী কর্মরত আছেন তাদেরও নিয়োগপত্র দেয়ার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। তবে কেউ কাজে ফাঁকি দিলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ কাজ না করলে তাদেরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে নতুনভাবে শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।












